রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার কারণ বিদেশ থেকেই অর্থ পাচার

0
59

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাসীদের অর্জিত রেমিট্যান্সও পাচার হচ্ছে। দেশে পাঠানোর আগেই হাত বদল হয়ে বিদেশেই অন্য হাতে চলে যায়। কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে রেমিট্যান্সের অর্থ সংগ্রহ করে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডায় পাচার করছে। এই অবৈধ পথে বছরে কি পরিমান অর্থ পাচার হচ্ছে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দেশে সংশ্লিষ্ট কারো কাছেই নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স পাচার হচ্ছে। মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ১ জন এজেন্টের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরো কয়েকটি সংস্থার এজেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিককালে কমে যাওয়ার এটা একটা কারণ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে অবস্থান করছেন। বিদেশে ফ্ল্যাট কেনা, ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য নিজেদের পারিবারিক খরচ মেটাতেও তাদের মোটা অ্েঙ্কর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। নিজস্বভাবে পাচার করা অর্থ ছাড়াও অতিরিক্ত চাহিদা মিটাতে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। এই অর্থ তারা সংগ্রহ করেন হুন্ডি ব্যবসায়িদের কাছে থেকে। হুন্ডি ব্যবসায়িরা প্রবাসীদের অর্জিত অর্থ থেকে তা সংগ্রহ করেন। হুন্ডি ব্যবসায়িরা ভাইবার, হোয়াটাসআপ, ম্যাসেঞ্জার প্রভৃতি অ্যাপস ব্যবহার করে থাকেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখি হওয়ার চলমান প্রবণতা অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য পেয়েছে।
জানা যায়, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রবাসীদের প্রচলিত ব্যাংক রেটের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে থাকে, যার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে উৎসাহিত হচ্ছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিড়ম্বনা, সময় ক্ষেপণের দরুণও অনেকে বৈধপথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এর প্রতিকারে অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু পদক্ষেপ নিলেও বিদেশে ব্যাংকগুলো তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ আসার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জিত অর্থের একটা অংশ বিদেশে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছেই থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনদের পরিশোধ করা হয় স্থানীয়ভাবে। এতে দুদিক থেকেই অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কিভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা যায় তার উপায় খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ ধরনের অবৈধপন্থা আশ্রয় না নিয়ে ব্যাংকিংয়ের এর বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠাতে যাতে ভোগান্তি হয়রানির শিকার না হন সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here