২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা আরো ৪ পলাতক আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ

0
96

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় পলাতক আরো চার আসামীর পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা গতকাল বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। যুক্তিতর্কের ২৯ তম দিনে গতকাল পলাতক আসামী মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়েরের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আবদুল বাতেন, পলাতক আসামী মুফতি সফিকুর রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মাজহারুল কুদ্দুস, পলাতক আসামী মো. ইকবালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ও পলাতক আসামী মাওলানা তাজউদ্দিনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আশরাফুল আলম যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের আসামীদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করে যুক্তিতর্ক পেশ করেন।
অপরদিকে আটক আসামী মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভির পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন তার আইনজীবী সাইফুর রশিদ সবুজ। এ যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম কাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এছাড়া আসামী আবদুস সালাম পিন্টুর উন্নত চিকিৎসা সংক্রান্ত আনা একটি আবেদন বিষয়ে কাল শুনানি ও সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানান আদালত। গতকাল পলাতক আসামী জাহাঙ্গির আলম বদরের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সাইদুল হক, রাতুল আহমদ বাবুর পক্ষে এডভোকেট মশিউর রহমান ও মহিবুল মোত্তাকিনের পক্ষে এডভোকেট হালিমা আক্তার যুক্তিতর্ক পেশ করেন। এর আগে পলাতক ১৮ আসামীর মধ্যে হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার, পলাতক মো. খলিলের পক্ষে এডভোকেট খলিলুর রহমান খান, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে এডভোকেট আশরাফ-উল আলম, বিএনপি নেতা পলাতক হারিছ চৌধুরীর পক্ষে এডভোকেট আবু তৈয়ব ও পলাতক আনিসুল মোরসালিনের পক্ষে এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।
পলাতক আসামীদের পক্ষে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়। গত ১ জানুয়ারি মামলার আসামীদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে। মামলার সকল আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষীদের দ্বারা দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি আদালতে বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আইনের বিধানের আলোকে আসামীদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করছি।’ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ জন স্বাক্ষী (পিডব্লিউ) ও আসামীপক্ষে ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য (ডিডব্লিউ) পর্যালোচনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করা হয়। আদালতে গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, স্পেশাল পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, কাজী ইলিয়াসুর রহমান, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ। অপরদিকে আসামিপক্ষে বিভিন্ন আইনজীবী গতকাল বুধবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক।
এ ছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২২ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here