সামরিক আলোচনার বিষয়ে রাজি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া

0
35

নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশি দেশ-দুটির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গত মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজামে বৈঠকে বসেন। সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে সামরিক আলোচনার বিষয়ে রাজি হয়েছে উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া। দুই বছরের মধ্যে প্রথমবার দুদেশের উচ্চ-পর্যায়ের এক বৈঠকে এ মতৈক্য হয়। দুবছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সামরিক হটলাইন আবার পুনর্বহাল করার বিষয়েও মতৈক্য হয়েছে, জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। মাসের পর মাস ধরে চলা উত্তেজনার মাঝেই এবার দুই কোরিয়ার শুধু সামরিক আলোচনার জন্যই মতৈক্য হয়নি, সেইসাথে দক্ষিণ কোরিয়াতে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া দুইবছর আগে বন্ধ করা একটি সামরিক হটলাইন পুনরায় চালুর বিষয়েও একমত হয়েছে দুদেশ, জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। প্রতিবেশী দেশ-দুটির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজামে বৈঠকে বসেন।
একদিন ধরে দর-কষাকষির পরে উভয় দেশের নেতাদের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয় এবং সামরিক আলোচনায় সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যদিও আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দল পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আলোচনায় নেতিবাচক ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, তারা জাতিসংঘের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যাতে নির্বিঘ্নে প্রতিবেশীরা অলিম্পিকসে অংশ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ বৈঠককে সতর্কতার সাথে সাধুবাদ জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণের ফলে যাতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমেরিকা দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এমন কাজ স্থগিতের জন্য প্রতিবেশী দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। জবাবে উত্তর কোরিয়া সম্মত হয়েছে যে, এই উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সিউলের দেওয়া পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার প্রস্তাবে জোরালো আপত্তি জানানো হয়েছে পিয়ং ইয়ংএর পক্ষ থেকে। কোরিয়ান যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো যাতে একত্রে মিলিত হতে পারে সে প্রস্তাবও এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে। দেশটি বলছে, তারা জাতিসংঘের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যাতে নির্বিঘেœ প্রতিবেশীরা অলিম্পিকসে অংশ নিতে পারে। তবে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একটা সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে টেলিফোনসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় পিয়ং ইয়ং।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here