এন্টি ডাম্পিং নীতি থেকে সরে আসেনি ভারত

0
14

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কাঁচাপাট রফতানির উপর আরোপিত এন্টি ডাম্পিং নীতি ভারত সরকার এখনও প্রত্যাহার করেনি। এরফলে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে গত ছয় মাস যাবত ভারত সরকারের কাছে কয়েকদফা অনুরোধ করেছে। বাংলাদেশ সফরকালে দু’দেশের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় বিষয়টি তোলা হয়েছিল। দেশের পাট শিল্প, কাঁচাপাট রফতানিকারকদের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপরও প্রতিকার পায়নি বাংলাদেশ।
পাট ও  বস্ত্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভারত, ভিয়েতনাম, মিশর, জাপানসহ বিশ্বের দশটিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের কাঁচাপাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মানে উন্নত, দামও কম বলেই এর আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং দিনে দিনে তা বেড়েই চলেছে। এসব দেশে বাংলাদেশের পাটজাত দ্রবাদির চাহিদাও বেশি। কাঁচাপাটের  চাহিদা বেশি ভারতে। অপেক্ষাকৃত কম দামের বাংলাদেশের কাঁচাপাটের কিনে তারা তা দিয়ে পাটজাত পণ্য তৈরি করে বিদেশে উচ্চমূল্যে রফতানি করে থাকে। গত দু’বছর যাবত ভারত বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট আমদানীর ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে দুই লাখ বেল কাঁচাপাট রফতানি করা হয়। এর আগের বছরও এই রফতানির পরিমান ছিল প্রায় পাঁচ লাখ বেল। এ বছর কাঁচাপাট রফতানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বছরের প্রথম দুই মাসে ৩০ হাজার বেল কাঁচাপাট রফতানি করা হয়। এরপর থেকেই রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রফতানি করা কাঁচাপাটের অর্থও এখন পর্যন্ত রফতানিকারকরা পাননি। নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
জানা যায়, ভারতে কাঁচাপাটের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত কৃত্রিম আঁশ তৈরিরর দিকেও ঝুঁকেছে। পশ্চিমবঙ্গেই গত কয়েক বছর নতুন সাতটি পাটকল নির্মিত হয়েছে। ভারতীয় এক শ্রেনীর প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, শিল্পপতি বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট আমদানীর প্রবল বিরোধিতা করছে। তাদের চাপের মুখেই কাঁচাপাট আমদানীর উপর ৫০ শতাংশের বেশি ডিউটি আরোপ করা হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও এন্টি ডাম্পিং নীতি থেকে সরে আসছেনা।
দেশে কাঁচাপাটের উৎপাদন বেড়ে এখন বছরে ৭০-লাখের টনের বেশি হয়। দেশের শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয় প্রায় ৩৫ লাখ টন। অবশিষ্ট কাঁচাপাট রফতানি করা হয়। ভারতের এন্টিডাম্পিং নীতির ফলে পাট শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here