দীপিকার মতো সমস্যায় পড়তে চলেছেন কঙ্গনা

0
51

বিনোদন ডেস্ক : দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘পদ্মাবত’ নিয়ে এক বছর ধরে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে গত ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। বক্সঅফিসেও সাফল্যের ঝড় তুলছে ‘পদ্মাবত’। সিনেমাটি মুক্তির পর অবশ্য সব বিতর্কের অনেকটা অবসান ঘটেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিবাদে জড়িয়েছে কঙ্গনা রানাউতের ইতিহাসভিত্তিক সিনেমা ‘মণিকর্ণিকা দ্য ক্যুইন অব ঝাঁসি’। ব্রাহ্মণদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সিনেমাটিকে নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।
রাজস্থানের ঝুনঝুনু এলাকার মালসিসারে সিনেমাটির শুটিং হচ্ছে। এ ছাড়া জয়পুরের আমের ফোর্ট ও যোধপুরের মেহরানগড় ফোর্টেও কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছে। মণিকর্ণিকাকেও পদ্মাবতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সিনেমাতেও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ। ‘সর্ব ব্রাহ্মণ মহাসভা’ নামে অখ্যাত এক ডানপন্থী সংগঠন ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে কঙ্গনার এ সিনেমাটি নিয়ে।
ওই সংগঠনের প্রধান সুরেশ মিশ্রা গতকাল রাজস্থান সরকারের কাছে অবিলম্বে শুটিং বন্ধের আবেদন জানান। মণিকর্ণিকা সিনেমায় কোনোভাবে ইতিহাস বিকৃত হয়েছে কিনা, তা আগে পরীক্ষা করার দাবি তোলেন তিনি। সুরেশ মিশ্রা দাবি করেন, পরিচালক যদি সিনেমায় কোনো বিতর্কিত দৃশ্য না রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, তবেই শুটিং করার অনুমতি দেওয়া হোক। ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, যদি রাজ্য সরকার তিনদিনের মধ্যে তাদের দাবি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তাহলে বিক্ষোভ শুরু হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা রাজস্থানের রাজ্যপাল কল্যাণ সিং ও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলাব চাঁদ কাটারিয়ার কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে তাদের হস্তক্ষেপের দাবি করব। আমরা সূত্র থেকে খবর পেয়েছি, এক ব্রিটিশ এজেন্ট ও রানি লক্ষ্মীবাঈকে নিয়ে একটি প্রেমের গানের দৃশ্য শুট করবে পরিচালক। যতদূর বুঝতে পারছি, জয়শ্রী মিশ্রার বিতর্কিত বই অবলম্বনেই সিনেমাটি বানানো হচ্ছে। প্রযোজককে চিঠি পাঠিয়ে আমরা জানতে চেয়েছি- কোন কোন ঐতিহাসিকের সঙ্গে তারা ছবির গল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে ছবির অন্যতম প্রযোজক কমল জৈন জানান, ‘মণিকর্ণিকায় রানি লক্ষ্মীবাঈকে সম্মানিতভাবেই দেখানো হয়েছে। ছবির চিত্রনাট্য তৈরির আগে ঝাঁসির ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। তারপরই লেখা হয়েছে চিত্রনাট্য। ছবিতে লক্ষ্মীবাঈয়ের কোনোরকম প্রেমের সম্পর্কের চিত্রায়ণ হয়নি। কোনোরকম ইতিহাসের বিকৃতি নেই এতে। তা ছাড়া রানি লক্ষ্মীবাঈ আমাদের দেশের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী। সম্মানিত দেশনেতাদের একজন। তিনি সাহসিকতার প্রতীক। তাকে নিয়ে সিনেমা তৈরির প্রসঙ্গে বিকৃতির অভিযোগ উঠলে খারাপ লাগবে। আমরা রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের জীবনের সত্যি ঘটনাই ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এরপরও যদি কেউ ছবির চিত্রনাট্য দেখতে চান, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা চিত্রনাট্য দেখাতে রাজি আছি। আমাদের গোপনীয়তার কিছু নেই। এই ছবি তৈরি করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। এই ছবির মাধ্যমেই দেশের অন্যতম নেত্রীকে বিশ্বের সামনে উপস্থিত করতে চাই। এই ছবি রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য স্বরূপ।’আর ব্রাহ্মণ সংগঠনের চিঠিতে বলা হয়, রানি লক্ষ্মীবাঈ ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাই তাকে নিয়ে সিনেমা তৈরি হলে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের আবেগ কাজ করবে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। রানি লক্ষ্মীবাঈ প্রেম করতেন, এটা কেউ কল্পনাতেও আনতে পারবে না। তরুণী বয়সেই ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছেন। যদি তার জীবন নিয়ে সিনেমা হয়, তাহলে তা আত্মজীবনীমূলকই হোক। বাণিজ্যিক সাফল্যকে মাথায় রেখে যেন ইতিহাসকে বিকৃত করা না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here