কারাগারে দেখা করে এসে মওদুদ খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে

0
51

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারাগারে যাওয়ার পর গতকাল নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া কোন পরিবেশে,

কেমন আছেন তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তাদের মতে খালেদা জিয়াকে একদম সাধারণ কয়েদিদের মতো রাখা হয়েছে। সেখানকার পরিবেশ নির্জন, খালেদা জিয়া একা। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সেবায় তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম রয়েছেন বলে যে খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে এসেছে, তা নাকচ করেছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। গতকাল বিকালে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে মওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, “ফাতেমাকে সেবা করতে দেওয়ার খবর সত্য না। তাকে ম্যাডামের সেবা করতে দেওয়া হচ্ছে না।” ৩৫ বছর বয়সী ফাতেমা দুই দশক ধরে খালেদার গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবার দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের দ- দিয়ে আদালত বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে পাঠানোর পর তার সেবা করতে ফাতেমাকেও ভেতরে রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন আইনজীবীরা। রাষ্ট্রীয় কারাগারে ব্যক্তিগত গৃহকর্মীকে রাখার সুযোগ না পাওয়ার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশেষ সুবিধাও তাকে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ।
“তাকে জনমানুষ থেকে দূরে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। সাধারণ কয়েদিদের মতো অনেকটা অখাদ্য খাবার তাকে দেওয়া হচ্ছে। “সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে, একটি দলের প্রধান হিসেবে তার ডিভিশন পাওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না।”
গতকাল বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটের দিকে কারাগারের ভেতরে যান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ পাঁচ আইনজীবী। মওদুদ আহমদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারা সেখান থেকে বের হন।
কারাগার থেকে বের হয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও একটি দলের প্রধান। তার ডিভিশন পাওয়ার কথা। অথচ তিনি তা পাননি। একদম নির্জন এক সেল। নির্জন কারাবাস বলতে যা বোঝায়, ম্যাডামকে তা দেওয়া হয়েছে। জনমানবহীন পরিবেশে রাখা হয়েছে। সাধারণ কয়েদিদের যা খেতে দেওয়া হয়, তাকে তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় অখাদ্য।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, যে গৃহপরিচারিকাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাকে ছাড়া ম্যাডাম ১৫-২০ বছর ধরে চলতে পারেন না, সেই ফাতেমাকেও এখনো তার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটা সরকারেরই দেখা দরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করব।
আপিল প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, রায়ের সত্যায়িত কপি পেলে সোম বা মঙ্গলবার আপিল করব। খালেদা জিয়া অসুস্থ। হাঁটুর ব্যথায় একা একা কষ্ট পাচ্ছেন। অথচ ডিভিশন দেওয়া হয়েছে বলে প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। তাকে রাখা হয়েছে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। দ-িত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর এই প্রথম আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে শুক্রবার তার পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন। শনিবার দুপুরের পাঁচ আইনজীবী কারা ফটকে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তারা কারাগারে প্রবেশের অনুমতি পান। কারাগারে প্রবেশের আগে মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আইন অনুযায়ী ১৮টি ক্যাটাগরির কারাবন্দি অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পান। এজন্য আলাদা আবেদন করতে হয় না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে আনার পর এখনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here