ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদালতের নির্দেশ

0
113

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দ-প্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ডিভিশন (জেলকোড অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা) দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ডিভিশনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে  বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জেলকোড অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত কর্তৃপক্ষই নিজের দায়িত্বে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এই নির্দেশ পাঠাবে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। এর পর থেকে তাঁকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে রাখা হয়েছে।
একই মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদ-াদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গত শনিবার ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।
বেরিয়ে এসে মওদুদ আহমদ জেলগেটে গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়া সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং একটি দলের প্রধান। কিন্তু কোনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি। পরিচারিকা ফাতেমাকেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অখাদ্য খেতে দেয়া হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘ডিভিশন সুবিধা ও পরিচারিকার জন্য আমরা আদালতে যাব। প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাব। সরকার যে বাইরে প্রপাগান্ডা করছে, তাঁকে ডিভিশন সুবিধা দেয়া হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ অসত্য।’
এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত ও স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকি রাখা হয়েছে। এটাকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জেলকোডে পরিষ্কার বলা আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলের নেত্রী ডিভিশন পাবেন, এজন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমরা অবিলম্বে তার মর্যাদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সরকারকে দায়ী থাকতে হবে জেলকোড ভঙ্গ করার জন্য। অবশ্য কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আগে থেকেই গণমাধ্যমে বলে আসছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া ডিভিশন পাবেন। তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছে সেখানে একটি খাট, টেবিল, চেয়ার, টিভি ও দুটি ফ্যান রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আরো বলা হয়, তার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে সেবা-শুশ্রূষা করতে একজন সেবিকা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই সেবিকা সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে থাকবেন। এছাড়া তার চাহিদা অনুযায়ী একটি জাতীয় দৈনিক সরবরাহ করা হবে। ভিআইপিবন্দি ও জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়া সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদ-াদেশ ঘোষণা করে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের পাশাপাশি বিচারক কারাদ-াদেশ দেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও। তাকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ-।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here