চা শ্রমিকদের স্কুল পড়–য়া কন্যাদের স্বপ্ন জাতীয় দলের ফুটবল খেলোয়ার হওয়া

0
89

মোঃ মামুন চৌধুরী,হবিগঞ্জ: জেলার চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি এলাকার আমু চা বাগান। এ বাগানের মধ্যে গড়ে উঠা উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ রয়েছে। স্কুল ছুটি হবার পর এ মাঠে চা বাগানের শ্রমিক কন্যরা ফুটবল খেলা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সহকারী শিক্ষক সুরঞ্জিত মুন্ডা ও আশিষ কর্মকার তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। চা কন্যরা চান এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে।
সরেজমিন গেলে প্রশিক্ষণ নেওয়াকালে স্কুলের শিক্ষার্থী জ্যোতি ওরাঁও বলেন, এখানেই প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে চান। আমরা পারতে চাই। পারব, পিছনে তাকাতে চাই না।
জ্যোতির সাথে খেলা করছিলেন স্কুলের শিক্ষার্থী পূজা মুন্ডা, সুমা রায়, দিপা ওরাঁও, জনিতা মুন্ডা, প্রতিমা ওরাঁও, তনুশ্রী ঘোষ, জবা রাজবংশী, মনি রাজগড়, সুরমনি ওরাঁওসহ অর্ধশতাধিক চা শ্রমিক কন্যা।
তারা গৌধূলির আগ পর্যন্ত স্কুলের মাঠে দুইভাগ হয়ে ফুটবল খেলা করেন। এমনভাবে তারা প্রতিদিনই খেলা করে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন। স্কুলের শিক্ষকরা তাদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা করছেন। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা পেয়ে তারা দিন দিন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তারা শুধু খেলায় পারদর্শি নয়, পড়াশুনায়ও ভাল করছে বলে জানানেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপন মুন্ডা। তিনি বলেন, শ্রমিকরাও তাদের সন্তানদের ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করেন। সবমিলিয়ে শ্রমিক কন্যারা এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বপ্ন দেখছে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়ার হবার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পূজা মুন্ডা ও উষা ওরাঁও জেলা পর্যায়ে খেলে সফলতা নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারেরমত স্কুলের শিক্ষার্থীরা সফলতার সাথে অংশগ্রহণ করেছে। আশ করছি ভাল রেজাল্ট আসবে।
আলাপকালে শ্রমিকরা বলেন- তারা বেশী পড়াশুনা না করতে পেরে চা বাগানে দৈনিক ৮৫ টাকার মজুরীতে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে সন্তানদের পড়াশুনা করাচ্ছেন। সন্তারা পড়াশুনার পাশাপাশি ফুটবল খেলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। আমরা কন্যাদেরকে উৎসাহিত করছি। শিক্ষকরাও উৎসাহ দেন। তাই কন্যা সন্তানরা দিন দিন পড়াশুনার সাথে ফুটবলে খেলায়ও এগোচ্ছে। আমাদেরও স্বপ্ন কন্যারা যেন জাতীয় মহিলা দলের খেলোয়ার হন।
প্রশিক্ষক সুরঞ্জিত মুন্ডা ও আশিষ কর্মকার বলেন, বিনা পারিশ্রমিকের মাধ্যমে চা কন্যাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস স্বপ্ন পূরণে তারা জয়ী হবেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here