বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেতে পারেন খালেদা জিয়া

0
25

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দ- হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিক্রিয়াশীল মহল ধুম্রজাল সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি।
তিনি বলেন, এখন আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া আপিল করবেন। এরপর আদালত বিবেচনা করবে তাকে জামিন দেয়া যায় কিনা। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি জামিন পেতে পারেন।
গতকাল দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এই সদস্য সচিব।
খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ার বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
একইসঙ্গে সাজার বিষয় নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি না করতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আওয়ামীপন্থি শীর্ষ আইনজীবীরা। প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অভিযুক্ত হয়ে কারো দুই বছরের অধিক সাজা হলে সাজার পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি নির্বোচনে অযোগ্য হবেন। এখন হাইকোর্টে আপিল হবে। খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করতে পারবেন। জামিনও পেয়ে যাবেন। তিনি মামলা স্থগিতও চাইতে পারেন। এ অবস্থায় কেউ যদি আপিল করেন আপিল চলা অবস্থায় একেবারে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কাজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো রকমের বিতর্ক সৃষ্টি করা ঠিক না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আওয়ামী সরকারের আরেক প্রাক্তন আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আদালত সাজা দিয়েছেন। এখানে সরকারের করার কিছু নেই। সাধারণত কোনো মামলায় পাঁচ বছরের যদি সাজা হয় সেই মামলায় উচ্চ আদালত জামিন দিয়ে থাকেন। সে হিসাবে খালেদা জিয়াও জামিন পাবেন। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি বলেন, ‘খালেদা জিয়াসহ যারা দ-প্রাপ্ত হয়েছেন, এর মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আইনের প্রক্রিয়ায় তিনি আপিল করবেন। আদালত বিবেচনা করবেন যে, তাকে জামিন দেওয়া যায় কি না এবং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন পেতে পারেন। ব্যারিস্টার তাপস আরো বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, এ রায়কে সেই মহল একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা তাদের চলমান। তারা ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে দেশকে যে বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল সেই রকম একটি ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। ডিভিশন দেওয়াকে নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডিভিশন তিনি প্রাপ্য। সে প্রাপ্যতা অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে তাকে ডিভিশন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং নতুন করে ধুম্রজাল ষড়যন্ত্র সৃষ্টির অবকাশ নেই।’ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবুদল বাসেত মজুমদার, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি মো. অজি উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here