রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে এগিয়ে না আসলে উদ্ভূত দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই বহন করতে হবে

0
206

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :“রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে এগিয়ে না আসলে উদ্ভূত দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই বহন করতে হবে”-এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো: শহীদুল হক। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ১৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন ।
নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পররাষ্ট্র সচিব মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা প্রদান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও এর টেকসই সমাধানের উপর “রোহিঙ্গা হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস: বাংলাদেশ রেসপন্স” শীর্ষক একটি বক্তব্য প্রদান করেন। এতে উঠে আসে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে উদার মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা এবং দেশবাসীকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানসহ অন্যান্য বিষয়গুলো।
এই মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে বাংলাদেশ যে নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তা সবিস্তারে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব। কোনো বিশেষ মহল যাতে রোহিঙ্গাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে মর্মে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি এ সঙ্কটের সমাধানে সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে উল্লিখিত ৫ দফা সুপারিশের পুনরুল্লেখ করেন। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মর্মেও তিনি জানান। এসংক্রান্ত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি দাবী করেন। পররাষ্ট্র সচিব জানান বতর্মানে এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজভূমিতে নিরাপদে, নিরাপত্তার সাথে এবং পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। নিজভূমিতে প্রত্যাবর্তন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা এবং এই সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের উপর অব্যাহত চাপ প্রদানের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।
প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবেই কারণ এ সমস্যা তাঁদেরই সৃষ্টি এবং মিয়ানমারই রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি।
ভারত, রাশিয়া, চীন, নেদারল্যান্ড, পেরু, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ওমান, সিঙ্গাপুর, ভ্যাটিক্যান, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়াসহ ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ওআইসি’র রাষ্ট্রদূত ড. আগশিন মেহ্দিয়েভ (অমযংযরহ গবযফরুবা)।
এর আগে দুপুরে নিউইয়র্কস্থ ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে একই বিষয়ে এক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. অ্যাডাম লুপেল এর সঞ্চলনায় এই আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ও বিশ্ববিদ্যালয়সমুহের দেড়শতাধিক প্রতিনিধি।
এখানেও আলোচনা ও আলোচনা পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে উঠে আসে মিয়ানমার সঙ্কট সমাধানের বিভিন্ন দিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয় বিষয়গুলো।
উভয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিদেশী রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘ ও এর সংস্থাসমূহ এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিগণ সীমিত সম্পদ ও ক্ষুদ্র আয়তনের দেশ হয়েও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে “ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন: এ টুল ফর গ্লোবাল ডেভোলপমেন্ট” বিষয়ক এক প্যানেল আলোচনায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here