স্টার হতে এসে হলেন স্টাফ

0
41

বিনোদন প্রতিবেদক : রুপালি পর্দার তারকাদের অভিনয়, সংলাপ ও তাদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন ভক্তরা। অনেকেই মনের অজান্তে তাদের প্রেমেও পড়ে যান। আবার অনেকে রুপালি পর্দায় নিজেকে দেখার স্বপ্ন নিয়ে হাঁটতে থাকেন দীর্ঘ পথ। তেমনি একজন টাঙ্গাইলের রাকিব হাসান। ছাত্রজীবন থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। নিজ উদ্যোগে টাঙ্গাইলে গড়ে তুলেন নাট্য সংগঠনও। মনে মনে তার বাসনা ছিল একদিন রুপালি পর্দায় অভিনয় করবেন। স্টার হবেন। দেশ-বিদেশের মানুষ তাকে চিনবে।
১৯৯৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেছেন মাত্র। তখন এলাকার এক বড় ভাই হঠাৎ রাকিবকে জানায় একটি সিনেমায় তার অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে। এ খবর শোনে আনন্দে আত্মহারা রাকিব। এরপর তড়িগড়ি করে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। এলাকার ওই ভাইয়ের সহযোগিতায় আবু সাঈদ খানের ‘দুজন দুজনার’ নামের সিনেমায় অভিনয় করেন রাকিব। এ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন চিত্রনায়িকা পপি।
ঢাকায় আসার পরের দিনই কক্সবাজারে সিনেমাটির শুটিং। কক্সবাজার যাওয়ার জন্য গ্রীণ লাইন বাসে তিনটি টিকিট কাটা হয়। একটি দেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খানের। একটি সহকারী পরিচালকের আর অন্যটি রাকিব হাসানের জন্য। শাকিব খান ও রাকিব পাশাপাশি সিটে বসে কক্সবাজার যান। যাওয়ার পথে দুজনের মধ্যে বেশ গল্প ও বন্ধুত্ব তৈরি হয়।
সিনেমাটিতে ধোপার চরিত্রে অভিনয় করেন রাকিব। প্রথম সিনেমায় অভিনয় করে কয়েকটি পোশাক আর দুই হাজার টাকা সন্মানি পেয়েছিলেন। এতেই বেজায় খুশি ছিলেন বলেও জানান রাকিব। এরপর ‘হীরাচুনি পান্না’, ‘ঠেকাও মাস্তান’, ‘হানিমুন’, ‘ওয়ার্নিং’, ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘গেইম রির্টান’, ‘চল পালাই’সহ প্রায় অর্ধশত সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাকিব।
অভিনয় করতে গিয়ে ১০টির মতো চাকরি হারিয়েছেন রাকিব। কিন্তু এরপরও স্টার হতে পারেননি। কীভাবে পরিচালকদের কাছাকাছি যাওয়া যায় এই কৌশল এক সময় খুঁজেন তিনি। কৌশল প্রসঙ্গে রাকিব হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘আমি সবসময় চাইতাম পরিচালকদের কাছাকাছি থাকতে। তাই কৌশল খুঁজে পরিচালক সমিতিতে একটি চাকরি নিই। কম্পিউটার কাজে দক্ষতা থাকার কারণে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নিই। এখানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছি। এরপর শিল্পী সমিতিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি নিলাম। এখন একসঙ্গে তিনটি সমিতিতে কাজ করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘‘একবার সাফি উদ্দিন সাফি ভাইয়ের ‘হানিমুন’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে পরিচালক সমিতির চাকরি হারিয়েছিলাম। অসুস্থতার কথা বলে তিনদিনের ছুটি নিয়েছিলাম। শুটিংয়ের জন্য মিথ্যে বলেছি এবং সেখানে সাতদিন শুটিং করেছি। সাতদিন পরে এসে দেখি আমার চাকরি নেই। এ ঘটনার কিছুদিন পর পরিচালক সমিতি আমাকে আবার চাকরিতে বহাল করেন।’’
অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রাকিব বলেন, ‘অভিনয় করছি এবং করে যাব। যে কোনো চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি আছি। কিন্তু পরিচালকরা আমাকে ভালো চরিত্রে কম নিচ্ছেন। তাই আমার অভিনয় করার জায়গা কম থাকে।’
স্টার হতে এসে এখনো স্টার হতে পারেননি এ নিয়ে নিজের মধ্যে আক্ষেপ হয় না? উত্তরে রাকিব বলেন, ‘আক্ষেপ তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন তো নতুন করে আক্ষেপ করার কিছু নেই। অভিনয়কে ভালোবাসি তাই অভিনয় করে যাচ্ছি। এতটুকুই।’
বড় পর্দা ছাড়াও রাকিব ছোট পর্দাতেও অভিনয় করেছেন। বেশ কিছু একক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। রাকিব মূলত কমেডি চরিত্রে বেশি অভিনয় করে থাকেন। বর্তমানে ‘এক কোটি টাকা’, ‘নায়ক’, ‘দেশ নায়ক’সহ বেশ কিছু সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here