ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে আছে সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ : শেখ হাসিনা

0
96

নিউজ ডেস্ক : সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ বিক্রিত পত্রিকা দ্য স্ট্রেইট টাইমস- এ গতকাল সেখানে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ‘ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে আছে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধের পুরোটা নিচে দেয়া হলো-  বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ১৯৭২ সালের প্রথমদিকে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দেশদুটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। আমাদের বন্ধুত্বের মূল একই মূল্যবোধ ও অভিন্ন আকাক্সক্ষার গভীরে প্রোথিত রয়েছে। গত কয়েক দশকে সিঙ্গাপুরের যে বিস্ময়কর আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে ব্যক্তিগতভাবে আমি তার প্রশংসা করি। বিগত ষাটের দশকে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) প্রতিবেশী অন্যান্য এশীয় দেশের মতোই ছিল। বর্তমানে সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী দেশ।
এটি সম্ভব হয়েছে সম্ভবত দেশটির বিচক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমী জনগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রজ্ঞা এবং সর্বোপরি গণমুখী আর্থ সামাজিক নীতির কারণে। মি. লী কুয়ান ইয়ের মতো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও দেশকে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার স্বপ্ন ছিল। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর ব্যবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা ও শ্রমখাতে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রতি বছরে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও উপরে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে।
তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পর নানা চাড়াই উৎরাইয়ের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। দুভার্গ্যজনক ওই রাতে জার্মানীতে থাকায় নৃশংস ওই হত্যাকা- থেকে আমি ও আমার ছোট বোন বেঁচে যাই। দেশটি দীর্ঘদিন সামরিক ও আধা সামরিক শাসনে ছিল। আমাকেও ১৯৮১ সালের মে পর্যন্ত নির্বাসনে থাকতে হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে আমি দেশে ফিরে আসি, যে রাজনৈতিক দলটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here