নির্বাচনী আবহ সৃষ্টিতে সরকারি দল এগিয়ে

0
65

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখেই সরকারি দল নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুুতি নিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সকল দ্বন্দ্ব-বিরোধের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক জেলার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা, উপজেলার নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে সভা করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করে বিরোধের মীমাংসা করছেন। দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর স্থানীয় দ্বন্দ্ব-বিরোধও অনেকাংশে কমে এসেছে। নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় প্রার্থী পরাজিত বা অনাকাঙ্খিত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যেক জেলা, উপজেলাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আট, নয় মাস থাকলেও দেশে নির্বাচনী আবহ সৃষ্টির চেষ্টা সরকারি দল থেকেই করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেটের জনসভা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গাজিপুর, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেশব্যাপী নির্বাচনী আমেজ, আবহ ছড়িয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক দলসমূহ বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তা নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তৃণমূলের নেতা কর্মীরা খালেদা-তারেক রহমানের মামলার পরিণতি নিয়ে বিচলিত এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে বলে নির্বাচনী কর্মকান্ডে সেভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে না। খালেদার দন্ডকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সহানুভূতি অর্জন এবং এরমাধ্যমে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির উপরই তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যে লড়াই হবে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সে ধারণা স্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থেকেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলীয় প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে রেখেছেন।
প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সরকারি দল অনেক এগিয়ে রয়েছে। দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী নিজে দলের প্রতীক নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। মন্ত্রী, সরকার দলীয় এমপি নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা গুছিয়ে এনেছেন প্রায়। প্রতি সপ্তাহেই মন্ত্রীরা নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন। এমপিরা এলাকায় অবস্থানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ কর্মীদের সঙ্গে চার বছরের দূরত্ব এতটা সহজে গুছিয়ে আনতে পারবেন না বলেই স্থানীয় অনেকে মনে করছেন।  নতুন নতুন মামলা, হয়রানি, বাড়িতে গিয়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই অবস্থার সুযোগ নিয়েই সরকার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে বিএনপি নেতারা  মনে করেন।
এদিকে সরকারি দল সুসমন্বিত, সুপরিকল্পিত ব্যাপক ভিত্তিক প্রচার অভিযানে নামতে যাচ্ছে। প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলায় কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়েও যাচ্ছেন। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-বিরোধের অবসান এবং প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচনী নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন সামনে রেখে এক কোটি চার রঙ্গীন পোস্টার ছাপানোর পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ছাপানো হবে ৫০ লাখ পোস্টার। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, মহিপালে ছয়লেনের সড়ক, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্টসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সরকারি প্রয়াসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য চিত্র এতে তুলে ধরা হবে। প্রথম পর্যায়ের ৫০ লাখ পোস্টারের অর্ধেক হবে বিএনপি-জামায়াত জোটের পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, সম্পত্তি ধ্বংসসহ দেশব্যাপী পরিচালিত শ্বেতসন্ত্রাসের চিত্রগুলো এতে স্থান পাবে। বিএনপি-জামায়াত বিরোধী জনমত জাগ্রত করা ও ধ্বংসাত্মক, নৈরাজ্য প্রাণহানিকর কর্মকান্ড সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করে তোলাই এর উদ্দেশ্যে।
আগামী মাস থেকেই ক্ষমতাসীন দল দেশব্যাপী পোস্টারিং শুরু করবে। মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, হাটবাজার, পাড়া- মহল্লায়, বাড়িতে বাড়িতে পোস্টারিং করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর আরো ৫০ লাখ কি তারও বেশি পোস্টার ছাপানো হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here