বাউফলে ক্যান্সার আক্রান্ত মিজানের প্রয়োজন থেরাপী

0
73

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : টিউমার ক্যান্সার গলার ভিতরে। তিনটি থেরাপী নিতে বলেছে ডাক্তার। প্রয়োজন ৫০ হাজার টাকা। ঘরে বৃদ্ধা মাসহ ৫ সদস্য পরিবারে সদস্যরা না খেয়ে আছে। এনজিও সাপ্তাহিক কিস্তি টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। যেন তছনছ হয়ে গেছে মিজানের ছোট সুখি সংসারটি। পটুয়াাখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে মিজানুর রহমান (হানিফ) মিস্ত্রী। দীর্ঘদিন গলায় টিউমার হয়ে বর্তমান ক্যান্সার রোগে ভুগছে। অর্থের অভাবে থেরাপী নিতে না পারায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় প্রতি মঙ্গলবার ‘প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকা’ শিরোনামে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় এ সপ্তাহের প্রতিবেদন হচ্ছে, বাউফলে ক্যান্সার আক্রান্ত মিজানের প্রয়োজন থেরাপী।
গতকাল সোমবার দুপুরে মিজান বাড়ীতে কথা বলেন এ প্রতিনিধি। মিজান চেয়ারে বসে আছে। চারপাশে বসা ছেলেমেয়ে স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা। সবাই হতাশ। আগামী কাল থেরাপী জন্য মিজান ঢাকায় যাবেন। হাতে টাকা নেই।
জানা যায়, মিজান পেশায় ছ মিলের কাঠ মিস্ত্রী ছিলেণ। গ্রামের বাড়ীতেই বিলবিলাস বন্দরের পাশেই ছ মিলে দৈনিক শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। প্রতিদিন ৫শ থেকে ৭শ টাকা উপার্জণ ছিল। মোটামুটি সংসার ভালো চলছিল। গত তিন মাস ধরে কাজ করতে পারছে না। শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পল্লী চিকিৎসক থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে এমবিবিএস ডাক্তার থেকে হাজার দশেক টাকা ঔষুধ খেয়েছেন। মিজান সুস্থ হয়ে উঠেনি। এক সময় বরিশাল ই শেরে বাংলা বিদ্যালয় কলেজ পরীক্ষা শেষে ঢাকাস্থ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীণ পরীক্ষা করলে ক্যান্সার হয়েছে বলে জানান। ওই কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার তাকে ৩ তিনটি থেরাপী নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যার মূল্য ৩৯ হাজার টাকা। ওষধুপত্র নিয়ে প্রয়োজন ৫০ হাজার টাকা। তাহলে ক্যান্সার আক্রান্ত  মিজান সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারে।
এ দিকে মিজান স্ত্রী ফরিদা কোডেক আশা থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছে। এনজি সাপ্তাহিক কিস্তি টাকা পরিশোধ, ৫ সদস্য পরিবারে খাবার সংগ্রহ এবং মিজানের ক্যান্সার প্রতিরোধে থেরাপী টাকা সংগ্রহ যেন আরো সংকটময় করে তুলেছে।
মা জানে তার সন্তানের দরদ। সত্তোর্ধ বয়সী বৃদ্ধা মা পরিবারে আহারের জন্য ইট ভাংতে চেষ্টা করলেও চোখের সমস্যা শরীরে শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। এক সময় ক্যান্সার আক্রান্ত মিজানের বৃদ্ধা মা জামিলা বেগম কালবেলা প্রতিনিধির পিঠে হাত বুলিয়ে বলতে লাগলেন। আমার একমাত্র কলিজার টুকরা। বৃদ্ধ বয়সে কামাই করে ভাত কাপড় দিচ্ছে। সেই সন্তান ক্যান্সার রোগে ভুগছে। টাকার অভাবে থেরাপি করতে পারছে না। ডাক্তার বলেছে থেরাপী নিলে সুস্থ হয়ে উঠবে। একটু সাহায্য চাই। রয়েছে মিজানের নিজস্ব বিকাশ একাউন্ড- ০১৭১৪৮৮৪১২১ (পারসনাল)।
বৃদ্ধা মায়ের জামিলা অভিমত হচ্ছে, বাউফল উপজেলার অনেক কৃতি সন্তান আছে। রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে সরকারি বেসরকারি চাকরি করছে। বিধাতা তাদের অনেক ধন সম্পদ দিয়েছেন। ওইসব ধনবান হৃদয়বানদের ব্যািক্তর একদিনের খাবার টাকা দান করলে আমার মিজান সসুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। মিজান সুস্থ হয়ে উঠলে ৫ সদস্য পরিবারের আহার পাবে। দোয়া থাকবে তাদের প্রতি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here