admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :
«» রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার কার্যকর কিছুই করছে না: প্রধানমন্ত্রী «» উত্তর কোরিয়ায় সিআইএ প্রধান: কিম জং আনের সঙ্গে গোপন বৈঠক «» ঢাকার রাস্তায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাপটে যাত্রীরা অসহায় «» ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছে মহাভারতের যুগে: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী «» জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে : শিল্পমন্ত্রী «» বিপিও সেক্টরে ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে : জয় «» সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো নারীদের সাইক্লিং প্রতিযোগিতা «» বিএনপি দেশের স্থিতিশীল অবস্থা মেনে নিতে পারছে না : ওবায়দুল কাদের «» মিয়ানমার প্রথমে ফিরিয়ে নিল ৫ জন «» যৌন নির্যাতন ছিল রোহিঙ্গা বিতাড়নের হাতিয়ার

মিয়ানমার প্রথমে ফিরিয়ে নিল ৫ জন

Page-1 (4)

বাংলাদেশে অবস্থান করছে ১০ লাখ রোহিঙ্গা
নিউজ ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পাঁচজনের একটি পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। তবে এই পরিবারটি বাংলাদেশের কোনো শরণার্থী শিবিরে ছিলো না। তারা ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’ থেকে প্রত্যাবাসিত হয়ছে বলে জানান কক্সবাজারের শরণার্থী,ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়, জাতিসংঘের এমন সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে পাঁচজনের এই পরিবারকে। জাতিসংঘ মিয়ানমারকে ‘জাতিগত নিধন এর অভিযোগে অভিযুক্ত করলেও মিয়ানমার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলেছে পাঁচজনের একটি পরিবার শনিবারে ‘প্রত্যাবাসন ক্যাম্পে পৌঁছায় এবং তাদের আইডি কার্ড ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়েছে। শনিবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবি ও তার সাথে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয় একটি মুসলিম” পরিবার জাতীয় সত্যায়ন পত্র গ্রহণ করছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করে না। এই সত্যায়ন পত্র একধরনের পরিচয় পত্র যেটি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে না। বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতারা এই পরিচয় পত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা পরিবার প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেয়ার আগের দিন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা সতর্কবার্তা দেয় যে মিয়ানমারের অবস্থা রোহিঙ্গাদের ‘নিরাপদ, সসম্মান ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল নয়। সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের আগে বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের তাদের আইনি অধিকার ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পাওয়াসহ রাখাইনে নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া আবশ্যক।” বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে এখনও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আসতে থাকলেও মিয়ানমার দাবী করছে তারা শরণার্থী ফেরত নিতে প্রস্তুত। কিন্তু জাতিসংঘ বলছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের দায়িত্ব শুধু ‘জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা৩
উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশের মধ্যে শুক্রবার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রাখাইন রাজ্য এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত নয়। তা স্বত্ত্বেও শনিবার এক রোহিঙ্গা পরিবার ফিরিয়ে নিলো মিয়ানমার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিয়ানমার রাখাইনে দুটি অভ্যর্থনাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। সম্প্রতি এই অভ্যর্থনাকেন্দ্রগুলো ঘুরে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও তৈরি নয় রাখাইন। তাঁরা আরো জানায়, সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচ্যুতির ঘটনা ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয় রাখাইন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইউএনএইচসিআরের সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও ইউএনএইচসিআরের মহাপরিচালক ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ওই সমঝোতায় সই করেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে চার লাখ রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে জাতিগত নির্মূল অভিযান শুরু হলে আরও সাত লাখ রোহিঙ্গা এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনএইচসিআর বলেছে, শরণার্থীদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারে এখনও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। দেশটির সরকারকে সেই পরিবেশ তৈরি করতে অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বাইরে আরও কাজ করতে হবে। সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীরা বলেছে, মিয়ানমারে ফেরার আগে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার ও রাখাইনে নিজেদের ভূমিতে সব মৌলিক অধিকার নিয়ে বসবাস করার নিশ্চয়তা চায়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাটি জানিয়েছে, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে যারা এখনও মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করছেন, তাদের নির্বিঘেœ চলাফেরার সুযোগ করে দেয়া হলে তা বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে। মিয়ানমার সরকার ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানায়, শনিবার প্রথম প্রহরে রোহিঙ্গাদের একটি পরিবার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করেছে। পাঁচ সদস্যের ওই মুসলিম পরিবারটি রাখাইনের টাওয়াংপেলিটাও শহরে প্রত্যাবাসন শিবিরে ফিরে এসেছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে মুসলিম বলে সম্বোধন করে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু তারা একসময় এ দেশে বসবাস করেছেন, তাই তাদের একটি জাতীয় প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। অর্থাৎ তারা নাগরিকত্ব কিংবা দেশটিতে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার পাচ্ছেন না। মিয়ানমারে প্রবেশের পর দেশটির অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করেছেন। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুর্নবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে চাল, মশারি, কম্বল, গেঞ্জি, লুঙ্গি ও রান্নার জিনিসপাতি দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, এখন ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা হলে সেটি একটি অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত হবে। মিয়ানমার সরকার এখনও তাদের ওপর আইনগত বৈষম্য ও কয়েক দশকের নির্যাতনের প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে এলেও বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে তাদের বাঙালি অভিবাসী বলে ডাকা হয়। দেশটিতে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নিয়ে চরম অবমাননাকর আশ্রয় শিবিরে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চলাফেরা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গত ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রী চ টিন্ট সোয়ে একটি চুক্তি সই করেন। তখন দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। এর পর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠনোর বিষয়ে অবকাঠামোগত আয়োজন নামে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ের আরেকটি চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। তাতে প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে তা শেষ করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী