শ্রমবাজারে নারীর ন্যায্য অধিকার কবে প্রতিষ্ঠিত হবে?

0
15

রেবেকা সুলতানা
পরিবর্তনশীল বিশ্বে অনেক কিছুই আর আগের অবস্থায় নেই। সভ্যতার অগ্রসরমানতায়শ্রম ওশ্রমজীবীর ধরন যেমন পাল্টে গেছে, তেমনি পাল্টেছে জীবনাচরণ। নিয়ত পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত আর নিুবিত্তের এই সরলীকরণে অনেক কিছুই দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। একইভাবে কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেরশ্রমজীবীদের জীবনধারণ। সময়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশেরশ্রমবাজারে পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরাও নিজের শ্রম বিনিয়োগ করছে। তবে অপ্রিয় হলেও সত্য, বুর্জোয়া শ্রেণিরশ্রমিক নেতাদের শোষণ-শাসন থেকে মুক্ত নয় তারা।পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীশ্রমিকরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কর্মক্ষেত্রে তাদের শ্রম ও মেধার সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিলেও পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় তারা আজও বঞ্চিত হচ্ছে।
সময়ে সময়ে নারীশ্রমিকদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী ও নারী অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখে উঠে আসা দাবিগুলো মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়নের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অর্ধেকই নারী। তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশে কর্মরত মোট নারীশ্রমিকের সংখ্যা অন্যুন ৪০ লাখ। শ্রমবাজারে নারীর অবদান তাৎপর্যপূর্ণ হলেও কখনই শ্রমিক হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকারের কথা বিবেচনায় নেয়া হয় না।
দেশে এখনও একই ধরনের কাজে নারীশ্রমিক পুরুষশ্রমিকদের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও কম মজুরি পান। এছাড়াও অনেক কারখানায় নারীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হয়; পাওয়া যায় না মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা চিকিৎসা সুবিধা।
কর্মক্ষেত্রের প্রায় সব স্তরেই নারীরা শিকার হচ্ছে তীব্র মজুরি বৈষম্যের। শহর এবং গ্রামভেদে নারী ও পুরুষশ্রমিকদের এ বৈষম্য আরও প্রকট। এক হিসাবে দেখা যায়- নারীশ্রমশক্তির ৮৩ শতাংশ হচ্ছে অবৈতনিক গৃহস্থালিরশ্রমিক, ১০ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থান, ৪ শতাংশ বেতনভোগী শ্রমিক ও ৪ শতাংশ দিনমজুর।
উৎপাদনমুখী খাতেই বেশির ভাগ নারী কর্মরত। মাত্র ১৭ শতাংশ নারী কারিগরি ও পেশাদারি খাতে নিয়োজিত। বিভিন্ন জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পোশাকশিল্প খাতে ৯০ ভাগ, নির্মাণ কাজসহ বিভিন্ন সেক্টরে ৮৪ ভাগ নারী শ্রমিক নিজেদের শ্রম বিনিয়োগ করে চলেছে।
সাধারণত দেখা যায়, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেই নারীদের অংশগ্রহণ বেশি। কৃষিকাজে বাংলাদেশের নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপক। কিন্তু তার কোনো স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে গৃহকর্মে নিয়োজিত নারীরাও সব ধরনের অধিকারবঞ্চিত।
এদের কোনো সার্ভিস রুল নেই; নেই অন্য কোনো বিধিবিধান। ফলেশ্রম আইনের সুবিধা থেকে এরা বঞ্চিত। পোশাকশিল্প ও কৃষিকাজ ছাড়াও নির্মাণ, চাতাল, চিংড়ি চাষসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে নারীর অংশ গ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।
এসব ক্ষেত্রেও নারীশ্রমিকের নিুতম মজুরি, কাজের সময়সীমাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কোনো নির্দিষ্ট বিধিবিধান নেই। চাকরির নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা নেই। মালিকপক্ষ যেভাবে নির্ধারণ করেন, সেভাবেই হয়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীশ্রমিকদের কাজের কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট না থাকায় ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় নামমাত্র মজুরিতে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধান, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা, আইএলও, সিডও সনদে নারীদের অধিকার ও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বৈষম্যহীন অবস্থানের পক্ষে সুস্পষ্ট বক্তব্য আছে।
প্রধানত মালিক বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা বৈরী মনোভাব, প্রচলিতশ্রম আইনের দুর্বলতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের অনুপস্থিতি অথবা দৃঢ় অবস্থান নিতে না পারার কারণেই শ্রম আইনের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে নারীশ্রমিকরা অধিকার বঞ্চিত হন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীশ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত কোটা পদ্ধতিও অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়নি এতদিন। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোয় কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা বেশি উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে হয়।
এমনও দেখা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানে ছয় শতাধিক কর্মজীবীর মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন। হাতেগোনা এই নারীদেরও হয়তো প্রায়ই সহকর্মীদের কটাক্ষ, বঞ্চনাসহ নানা অসৌজন্য মূলক আচরণের সম্মুখীন হতে হয়।
দেশের অধিকাংশ কর্মক্ষেত্র নারীবান্ধব নয়। যৌন হয়রানির ঘটনা ছাড়াও পুরুষ সহকর্মীদের মনমানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণেশ্রমজীবী নারীদের নানা ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।
শ্রমজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্র ছাড়া গৃহস্থালি কাজেও অনেক সময় দিতে হয়। খাবার তৈরি, সন্তান লালন-পালন, ঘরদোর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া- এসব কাজ থেকেশ্রমজীবী নারীদের রেহাই পাওয়ার সুযোগ থাকে না।
ফলে দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা কাজের নৈতিক সময়সীমা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। দেশের অনেক শিল্প-কারখানায় কর্মপরিবেশ এমন- টানা কয়েক বছর কাজ করলে নারীশ্রমিকদের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কিডনিসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে দেখা যায় নারীশ্রমিকদের। কিছু কিছু কারখানায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকে না। সরকার নির্ধারিত ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিও সবার জন্য নিশ্চিত করা যায়নি।
অনেক প্রতিষ্ঠানে সন্তানসম্ভবা নারীশ্রমিককে উল্টো চাকরিচ্যুত করা হয়। তাছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বেতন-ভাতা-বোনাস ইত্যাদির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়।
মনে রাখতে হবে, নারীশ্রমিকদের শোষণ-নিপীড়ন ও বৈষম্যের মধ্যে রেখে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেশ্রম আইন প্রণীত হলেও কার্যত এর কোনো প্রয়োগ নেই।
আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবে প্রণীতশ্রম আইনটি অকার্যকর হলেও আজকের আলোচনায় আইনটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসা প্রয়োজন।
বাংলাদেশশ্রম আইন-২০০৬ এর ১০৯নং ধারায় বলা আছে- ‘কোন মহিলা শ্রমিককে তাহার বিনা অনুমতিতে কোন প্রতিষ্ঠানে রাত দশ ঘটিকা হইতে ভোর ছয় ঘটিকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।’
অথচ বাংলাদেশের কারখানায় এ আইন মানা হয় না। ৪৫নং ধারায় বলা আছে- ১. কোনো মালিক তার প্রতিষ্ঠানে সজ্ঞানে কোনো নারী সন্তান প্রসবের পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে কোনো কাজ করাতে পারবেন না।
২. কোনো নারী কোনো প্রতিষ্ঠানে সন্তান প্রসবের পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে কোন কাজ করতে পারবেন না। ৩. কোনো মালিক কোনো নারীকে এমন কোনো কাজ করার জন্য নিয়োগ করতে পারবেন না, যা দুষ্কর বা শ্রমসাধ্য অথবা যার জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অথবা যা তার জন্য স্বাস্থ্যহানিকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি- ক. তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে অথবা যদি নারী কর্মজীবী তাকে অবহিত করে থাকেন যে, দশ সপ্তাহের মধ্যে তার সন্তান প্রসব করার সম্ভাবনা আছে; খ. মালিকপক্ষের জানামতে নারী কর্মজীবী পূর্ববর্তী দশ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন।
তবে শর্ত থাকে যে, চা-বাগান শ্রমিকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চা-বাগানের চিকিৎসক কর্তৃক যতদিন পর্যন্ত সক্ষমতার সার্টিফিকেট পাওয়া না যাবে, ততদিন পর্যন্ত ওই শ্রমিক হালকা ধরনের কাজ করতে পারবেন এবং অনুরূপ কাজ যতদিন তিনি করবেন, ততদিন তিনি প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত হারে মজুরি পাবেন, যা প্রসূতি কল্যাণ ভাতার অতিরিক্ত হিসেবে প্রদেয় হবে।
৪৬নং ধারায় বলা আছে- ১. প্রত্যেক নারীশ্রমিক তার মালিকের কাছ থেকে সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী আট সপ্তাহ এবং সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের জন্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন এবং তার মালিক তাকে এ সুবিধা প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।
তবে শর্ত থাকে যে- কোনো নারীশ্রমিক ওই সুবিধা পাবেন না, যদি না তিনি তার মালিকের অধীনে সন্তান প্রসবের অব্যবহিত আগে অন্যূন ছয় মাস কাজ করে থাকেন। ২. কোনো নারী শ্রমিককে ওই সুবিধা প্রদেয় হবে না, যদি তার সন্তান প্রসবের সময় দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকে; তবে এক্ষেত্রে তিনি কোনো ছুটি পাওয়ার অধিকারী হলে তা পাবেন।
আইনটির বিধিবিধান কার্যত উপকারী সিদ্ধান্ত হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির অভাবে, পর্যবেক্ষণের অভাব থাকায় আইনগুলো কেউ সেভাবে মানছে না। ফলে আইনগত সুবিধাগুলো কাগজ-কলমেই রয়ে যাচ্ছে।
বস্তুতশ্রমিকদের জন্য আইনটির সফলতা চোখে পড়ে না বললেই চলে। কাজেই আইনটির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে যথাযথ পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করা না গেলে নারীশ্রমিকদের মুক্তি নিশ্চিত করা যাবে না।
নারী ও পুরুষশ্রমিক সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান কিংবা অধিকার দৃষ্টি ভঙ্গিতে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের ধারায় বিবেচিত হলেও পরিবার-কর্মস্থল-সমাজ-রাষ্ট্র সর্বত্রই নারী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, যা নারীর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
এজন্য কৌশলগত কর্মসূচি হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, যেমন-শ্রমজীবী নারী, নারীশ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক, মানবাধিকার কর্মী এবংশ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নারীশ্রমজীবীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্লাটফর্ম গড়ে তোলা;
প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারীশ্রমিকদের সংগঠিত করা; বিদ্যমান নীতি ও আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে নারীশ্রমিকের দাবি তুলে ধরা ও দাবি আদায়ে তাদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা; ট্রেড ইউনিয়নে নারীশ্রমিকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নারী ও পুরুষশ্রমিকের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ;
বিদ্যমান নীতি ও আইন সংস্কারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা; প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারীশ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ পরিচালনা করা; অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন বাধ্যতামূলক করতে আইনের সংস্কার করা;
শ্রমবাজারে নারীশ্রমিকের স্থায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা ও বাস্তবায়ন করা এবং সবস্তরের নারীশ্রমিকের অর্জনগুলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিম-লে তুলে ধরা।
গ্রামে কিংবা শহরে, কৃষিকাজে কিংবা শিল্প-কারখানায় সবখানেই নারী শ্রমিকদের সরব উপস্থিতি দৃশ্যমান। অথচ শ্রমবাজারের সবস্তরেই নারীরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা পাচ্ছেন না সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি, তেমনি পাচ্ছেন না সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ।
রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র সবস্তরে নারীদের যৌন হয়রানির ব্যাপারটিও ভাববার বিষয়। একজন নারীকে নানান সময় নানান ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। নারী কখনও মা, কখনও কন্যা আবার কখনও স্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সংসারের নিত্যকর্ম এক হাতে সামলায়।
পাশাপাশি পরিবারের অভাব-অনটন ঘোচাতে তাকে শ্রমবাজারে বিনিয়োগ করতে হয় নিজের শ্রম। কিন্তু নারীরা সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী- এসব নারীদের বুকে আশার আলো প্রোজ্জ্বলিত করলেও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।
শ্রমবাজারে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের অবরুদ্ধ রেখে কিংবা নিয়ত বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে, নারীদের শোষণ করে পরিবার, সমাজ তথা জাতীয় জীবনে প্রত্যাশিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।
তাই এখনই সময়- নারীশ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ দেয়া। কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের হয়রানি থেকে নারীদের মুক্ত করা গেলে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশেরশ্রমবাজারের সুনাম বৃদ্ধি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

রেবেকা সুলতানা : উন্নয়নকর্মী, নির্বাহী পরিচালক, অন্যচিত্র উন্নয়ন সংস্থা

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here