নিশ্চিত বিজয়ের পথে আওয়ামীলীগ প্রার্থী

0
29

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রওয়ারি ফলাফল ঘোষণা করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।  সর্বশেষ ফলাফল অনযিায়ী আওয়ামীলীগ প্রাথী বিজয়ের পথে।  নির্বাচন কর্মকর্তারা এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হয়েছে বলে মনে করছেন । ২৪৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামীলীগ প্রার্থী পেয়েছেন ১,৫১০৯৯ ভোট, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৯৩,৫৬০ ভোট।  দুটি ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট নেওয়া হয়েছে। ফল পেতে রাত হবে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দিনভর ভোটে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নানা অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার ভালো ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বলছেন, ভোট ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলছেন, অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
অনিয়ম ও বুথ দখল করে ভোট দেওয়ার কারণে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র (পুরুষ) ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও অন্তত তিনটি কেন্দ্রে ভোট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হন প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা।
খুলনায় ভোট নিয়ে শুরু থেকেই ছিল নানা শঙ্কা। তবে এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলাজনিত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির একজন এজেন্ট সেলিম কাজীকে মেরে রক্তাক্ত করার ঘটনা ঘটেছে।
খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) মেয়র পদে লড়েছেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৫ জন নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোট হয়েছে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে। দুটি ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সেখানে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেন ভোটাররা।
প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ২৪ জন পুলিশ ও আনসার। সাধারণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে ছিল ২২ জন করে। এর বাইরে পুলিশের ১১টি স্ট্রাইকিং দল, ৭০টি ভ্রাম্যমাণ দল, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র?্যাবের ৩২টি ভ্রাম্যমাণ দল, ৩১ জন নির্বাহী হাকিম এবং ১০ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন কমিশন বলছে, খুলনায় মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ । আর ৫৫টি সাধারণ বা ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র আছে।
ভোট শুরুর পরই বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনিয়মের নানা অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ৪০টি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের মারধরের কথাও বলেন তিনি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিএনপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছেন। তিনি বলেছেন, পরাজয় বুঝতে পেরে বিএনপি এসব কথা বলছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেছেন, দু–একটি ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বিএনপির অভিযোগ সুস্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here