মুক্তিযোদ্ধা-বিজ্ঞানী জিনাত নবীর এওয়ার্ড লাভ

0
301

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি: গবেষণা-কর্মে বিশেষ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি কম্যুনিটি সার্ভিসে নিবেদিত মুক্তিযোদ্ধা-বিজ্ঞানী ড. জিনাত নবীকে ‘এশিয়ান হেরিটেজ কমিটি’র এওয়ার্ড প্রদান করা হলো। ১৮ মে শুক্রবার অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে একইসাথে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের জজ মার্গারেট চেং এবং নিউইয়র্ক পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর টমি ন্যাগকেও প্রদান করা হয় এই এওয়ার্ড। উল্লেখ্য, মে মাসকে ‘এশিয়ান হেরিটেজ মান্থ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্যে মানবতার সেবামূলক কর্মকান্ডে বিশেষ অবদানের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ শ্রমিক ফেডারেশন ‘এএফএল-সিআইএ’র অধিভুক্ত শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই এওয়ার্ড প্রদান করে। নিউইয়র্কের সোয়া দুই লাখ শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারি লোকাল-৩৭ এর সদর দফতরে এ এওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং ও ছিলেন। এওয়ার্ড বিতরণ করেন এই শ্রমিক ইউনিয়নের ট্রেজারার এবং নিউইয়র্ক অঞ্চলে এশিয়ান হেরিটেজ কমিটির চেয়ারপার্সন মাফ মিসবাহ উদ্দিন।
এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেন, এই আমেরিকায় তথ্য-প্রযুক্তি, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, গবেষণা, শিক্ষকতা, বিনিয়োগসহ সকল সেক্টরেই এশিয়ান-আমেরিকানরা অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু সে অনুযায়ী মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নেই। এহেন অবস্থার অবসানে আসাল (এলায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার)সহ বিভিন্ন ককাস কাজ করছে। উল্লেখ্য, মাফ মিসবাহ হচ্ছেন আসালের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান।
গ্রেস মেং বলেন, আমি যখন প্রথম প্রার্থী হয়েছি, তখোন এই আসাল আমার জন্যে কাজ করেছে। এভাবেই আমাদেরকে সম্মুখে এগুতে হবে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ-আমেরিকান পদক্ষেপ রুখে দিতে মূলধারায় জোরালো ভ’মিকার বিকল্প নেই। গ্রেস মেং বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, অভিবাসীরা গড়ছেন এই দেশ। অথচ সেই অভিবাসীদের তুচ্ছ্ব-তাচ্ছ্বিল্য করা হচ্ছে। কথায় কথায় হয়রানি-নাজেহাল হতে হচ্ছে অভিবাসী সমাজকে। এহেন পরিস্থিতির অবসানে সকলকে মূলধারার পতাকাতলে জড়ো হতে হবে।
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া বিজ্ঞানী ড. জিনাত নবী এই এওয়ার্ড পাবার অনুভূতি ব্যক্তকালে বলেন, বহুজাতিক এই সমাজে বৃহৎ একটি অংশজুড়ে রয়েছি এশিয়ানরা। এই আমেরিকাকে আজকের অবস্থানে আনতে এশিয়ানদের অবদান খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তাই আজ যে সম্মান পেলাম, তার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনে আরো অনুপ্রাণীত হবো।
মাফ মিসবাহ বলেন, শুধু মে মাস নয়, সারা বছরই এশিয়ান ইতিহাস-ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে কাজ চলছে শ্রমিক ফেডারেশনে। কারণ, এশিয়ানরা নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন আমেরিকাকে শ্রেষ্ঠ একটি রাষ্ট্র হিসেবে আরো উর্দ্ধে উঠাতে। মাফ মিসবাহ এএফএল-সিআইও’র পক্ষ থেকে সমবেত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here