নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ইমাম ও মুয়াজ্জিন হত্যা মামলায় এক আমেরিকানের আজীবন দন্ড

0
147

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি: যোহরের নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশী ইমাম মাওলানা আকঞ্জি এবং মুয়াজ্জিন তারাউদ্দিনকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা মামলায় ওস্কার মরেলের আজীবন কারাদন্ড হলো। ৬ জুন বুধবার কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় জজ গ্রেগরী লাসেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এই রায় প্রদান করেন। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্টে নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্কে আল ফোরকান মসজিদের ইমাম আকঞ্জি (৫৫) এবং মুয়াজ্জিন তারাউদ্দিন (৬৪) কে লিবার্টি এভিনিউ দিয়ে পায়ে হেঁটে ঘরে ফেরার সময় ৭৯ স্ট্রিটে পেছন থেকে পয়েন্ট ৩৮ কেলিবার রিভলবার তাক করে অস্কার মরেল (৩৭) বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে। এমন বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় মসজিদ ও ইমামের বাসার মধ্যিখানে। বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় এমন হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সারা আমেরিকায় বিক্ষোভ হয়। নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম আমেরিকানরাই শুধু নন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও যোগদান করেন প্রতিবাদ সমাবেশে। সিলেট অঞ্চলের সন্তান এ দু’জনের জানাযায় অংশ নেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি বøাসিয়ো, পুলিশ কমিশনারসহ নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি। সে সময়েই পুলিশ প্রশাসন থেকে অঙ্গিকার করা হয়েছিল যে, ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সকল প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে। মাননীয় আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, ঘাতক কখনোই প্যারলেও মুক্তি পাবে না। নির্জন কক্ষে তাকে বাকিটা জীবন অতিবাহিত করতে হবে।
এ রায় গণমাধ্যমকে অবহিত করার সমন্স কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী রিচার্ড এ ব্রাউন বলেন, জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের পথ ধরেই ঘাতককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছে। কারণ, সে মানবতার ন্যূনতম ধার ধারেনি। ধর্মপ্রাণ দু’জন মানুষকে নির্বিচারে হত্যার মধ্য দিয়ে সে জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করেছিল। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী উল্লেখ করেন, কাপুরোষিতভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনকে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতক শুধু দুটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়নি, সে আমাকের শান্তিপ্রিয় কম্যুনিটির মুসলিম সমাজের হৃদয়ে আঘাত করেছে। ক্ষতবিক্ষত করেছে তার চেতনা আর অনুভ’তিকে।
ঘাতকের বাড়ি অকুস্থল থেকে কয়েক মাইল দূর ব্রæকলীনে মিলার এভিনিউতে। গত মার্চে জুরিবোর্ড টানা ৩ সপ্তাহের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল একই আদালতে।
ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী বলেন, গুলি করে ভূপাতিত করার পর অস্কার অকুস্থল থেকে পলায়ন করেছিল। তবে আশপাশের সিসিটিভি পরীক্ষা করে তাকে শনাক্ত করা হয়। এই হত্যাকান্ডের ১২ মিনিট পর কিছুদূর পিটকিন এবং পাইন এভিনিউতে অবস্থিত সার্ভিলেন্স ভিডিও পরীক্ষার পর দেখা যায় অস্কার তার দ্রæতগামি গাড়ি দিয়ে একজন সাইকেল আরোহিকে আঘাত করে। এরপরও সে রীতি অনুযায়ী গাড়ি না থামিয়ে চম্পট দেয়। নিকটে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি অস্কারের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর সংগ্রহের জন্যে নিজ গাড়ি চালিয়ে তার পিছু নেন। এরপর তা জানানো হয় টহল পুলিশকে। অস্কারকে নিজ ঘর থেকে গ্রেফতারের সময় রিভলবারও উদ্ধার করা হয়।
মামলার এ রায়ে প্রবাসীদের মধ্যেও স্বস্তি এসেছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here