যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই লঞ্চ চলছে

0
60

নিজস্ব প্রতিবেদক : নৌপথে বাণিজ্যিকভাবে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান পরিচালনার জন্য সনদ সংগ্রহ এবং মাষ্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপের জন্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সার্টিফিকেট নেয়া বাধ্যতামূলক। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে কঠোর বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করেই কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টারা অসাধুতার আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা চলাচলের অনুপযোগী নৌযানকে সনদ দিচ্ছে। পরীক্ষা না নিয়েই ও অনুত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট দিচ্ছে।  এরফলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে। যাত্রীদের জীবন হুমকিতে রেখে অদক্ষ, আধাদক্ষ জনবল দিয়ে নৌযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে এই অসাধু তৎপরতা ব্যাপকভাবে চলছে। যান্ত্রিকভাবে ক্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন, জরুরি সরঞ্জামাদির ঘাটতি নিয়েই নৌযান পরিচালিত হচ্ছে। ঈদে বাণিজ্যিক লোভে লঞ্চ মালিকরা ছাদ ভরে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে নৌযান পরিচালনা করছে। অদক্ষ আধাদক্ষ মাষ্টার দিয়ে পুরোনো ব্যবহার অনুপযোগী লঞ্চ রং করে চালানো হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবারে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি। আসন্ন বর্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মারাত্মকভাবে আঘাত হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষ, অভিজ্ঞ মাষ্টার ও ড্রাইভারের অভাবে দুঘর্টনার ঝুঁকিও বেড়েছে। নৌযানের মাষ্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপের সনদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিবছরই অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে চলায় মন্ত্রণালয় থেকে যথেষ্ট কড়াকড়িও আরোপ করা হয়।  কিন্তু তা প্রতিপালন না করে গোপন সমঝোতায় মাষ্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপের সনদ সংগ্রহ করা হয়। চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হয় এজন্য। অযোগ্য, অনুত্তীর্ণদের মাষ্টারশিপ ও ড্রাইভারদের বেতন, বিভিন্ন ভাতার সুবিধা বাড়ায় সংশ্লিষ্টরা এ কাজে অধিকতর আগ্রহী। অতিরিক্ত যাত্রী ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আয়ের সুযোগ থাকায় মোটা অঙ্কের অর্থব্যয় করেও সনদ সংগ্রহ করা হয়।
সারাদেশে কয়েক হাজার যন্ত্রচালিত নৌযানকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এগুলো চলাচলের উপযোগী কিনা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরঞ্জামাদি দক্ষ, জনবল রয়েছে কিনা যাচাই না করেই লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুই ইঞ্জিনের ছোট নৌযানগুলোর অধিকাংশই অদক্ষ জনবল দিয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছে। ছোট-মাঝারি যাত্রীবাহী সব লঞ্চে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নেই। অদক্ষ মাস্টার, ড্রাইভার দিয়ে পরিচালিত হয়। লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক হলেও তা নেই। ক্রুটিপূর্ণ মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাদে যাত্রী নেয়া, অতিরিক্ত মাল বহন করা নিষিদ্ধ হলেও এর তোয়াক্কা করা হচ্চেনা। যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্তে¡ও অধিদপ্তর তেমন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সীমিত কিছু অভিযান পরিচালনার মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। গত বছর বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষ অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেননি। এবারের বর্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ঝুঁকি নিয়েই লঞ্চসহ ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here