জাতিসংঘ মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ বাড়াবে : গুতেরেস

0
159

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ মিয়ানমারের ওপর চাপ আরও বাড়াবে বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস । গতকাল রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি একথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আমরা মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছিৃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে কী করা উচিৎ সেটা যাতে মিয়ানমার বুঝতে পারে সেজন্য তাদের ওপর আমাদের চাপ বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা বাংলাদেশকে তাদের দেওয়া সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকে রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যে ১৯৭৭ সাল থেকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে সেটাও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কেবলমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করেই বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসনের জন্য একটি দ্বীপ প্রস্তুত করা হচ্ছে, যেখানে তারা উন্নত জীবনমান ও জীবিকার সুযোগ পাবে। ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করতে হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সমস্যাও আমাদের দেখতে হবে এবং আমরা সেটা করছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে উভয় দেশই সমঝোতায় সই করেছে। তবে এর বাস্তবায়নে তারা এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
উল্লেখ্য নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।
শনিবার দিবাগত রাত ২টার পর কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। পরে সাংবাদিককে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমি এখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ও অত্যন্ত বিনয়ী বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছি।’ তিনি বলেন,  ‘বাংলাদেশিরা বিশেষ করে কক্সবাজারের স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অত্যন্ত সহৃদয়পূর্ণ আচরণ করেছেন।’বিমানবন্দর থেকে র‌্যাডিসন হোটেলে যান আন্তোনিও গুতেরেস। দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে এই হোটেলেই থাকবেন তিনি।তার আগে বিকেলে ঢাকা পৌঁছান বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। তিনিও র‌্যাডিসন হোটেলে উঠেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্ব ব্যাংক প্রধান আজ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। গুতেরেস এর আগেও ইউএনএইচসিআরের শীর্ষ পদে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর। তবে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম দুই বছর আগেই একবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা চার লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। গতবছর ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে আরও প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা।জাতিসংঘ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলে আসছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে এবং এই প্রত্যাবাসন যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে হয়, তা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here