সামনে আরো কঠিন সময় বিএনপির

0
94

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বর্জনের পরস্পর বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েই বিএনপি অহিংস শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পাশাপাশি হিংসাত্মক কর্মসূচির বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন পথ চুড়ান্তভাবে বেছে নেয়া হবে তা নির্ভর করছে সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের উপর। তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তফসিল ঘোষণার পর। এতে লাগাতার হরতাল, অবরোধ, বন্দর অচল করে দেয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি থাকবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন ও নির্বাচনসহ সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিএনপির নেতৃস্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন প্রশ্নে তারেক রহমান ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে তা শর্তসাপেক্ষ। শর্ত হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তারেক রহমান একথাও জানিয়েছেন যে, তার এই মনোভাবের উপর নির্ভর করে যেন চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের চুল চেরা বিচার বিশ্লেষন ও মতামতের ভিত্তিতে। বিশেষ করে সিনিয়র নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। জানা যায়, লÐনের বৈঠকে তারেক রহমান ২৭০টি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রার্থী চ‚ড়ান্ত করেছেন। এদের মধ্যে ২৭টি নির্বাচনী এলাকায় বিকল্প নামের তালিকাও দিয়েছেন। চ‚ড়ান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা থেকেই  বেগম খালেদা জিয়াসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দুটি বিকল্প তালিকা সঙ্গে নিয়ে যান। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় মাত্র দুই জনের বিকল্প নাম এতে ছিল। কিছু ক্ষেত্রে তিন জনের নামও ছিল। যতদূর জানা যায়, তারেক রহমান তার ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যক্তিদের ব্যাপারে খুব একটা অনমনীয় অবস্থান নেননি। তবে তাঁর পছন্দের তালিকার উনিশজন তরুন নেতাকে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী তালিকায় স্থান দিয়েছেন। ২৭০ জনের তালিকা ঠিক করে দেয়ার পরও প্রয়োজনে রদবদল করে চ‚ড়ান্তভাবে স্থির করার দায়িত্ব র্শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা যায়। তারেক রহমানের এই ভ‚মিকা ঢাকায় নেতাদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছে। তারেক রহমান শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ  রেখে চলায় এবং খোলামেলা আলোচনা করায় তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
নির্বাচনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি প্রয়োজনে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে আসার মানসিক প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ আরো কিছু দাবির প্রশ্নে সরকার অনমনীয় থাকলে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারে। তাদের এই দ্বিমুখী নীতি কতটা ফলদায়ক হবে তা নিয়ে বিএনপি শিবিরেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাঠের নেতা-কর্মীদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার পর নির্বাচনী মাঠ ত্যাগ করা অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দলের কোন অংশ যাতে গোষ্ঠীস্বার্থে ভ‚মিকা নেয়ার সুযোগ নাপায় সেজন্য তফসিল ঘোষণার পর পরই বিএনপি হাইকমান্ড নির্বাচন প্রশ্নে প্রকাশ্যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। সরকার বিএনপির সাথে আলোচনায় বসে কোন সমঝোতায় না এলে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়পত্র জমা না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হতে পারে। রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ করে সদিচ্ছা থাকা সত্তে¡ও সরকারের একতরফাভাবে নির্বাচন করিয়ে নেয়ার মানসিকার কারণে নির্বাচন বর্জনে তাদের বাধ্য হওয়ার কথা জানাবে।
আগামী আগষ্ট থেকেই বিএনপি ঢাকা ও অন্যান্য মহানগরসহ দেশব্যাপী তাদের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন সংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। অবাধ, প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তাদের দাবিগুলোর ব্যাপারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন সংগঠিত করাই উদ্দেশ্য। দেশে বিদেশে জোর ক‚টনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষে বিএনপি গণতান্ত্রিক বিশ্বের সমর্থন, সহযোগিতা চাচ্ছে। ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার ক‚টনীতিক ও কর্মকর্তাদের সাথে বিএনপির প্রতিনিধিরা দেখা করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তাদের জানিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে। দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটারের প্রতিনিধিত্বকারী অন্যতম বৃহৎ দল হিসেবে তারা নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু সরকার  ন্যুনতম ছাড় দিয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা বিধান না করায় নির্বাচনে অংশ নেয়া, না নেয়া সমার্থক উল্লেখ করে তারা নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হওয়ার কথা জানাবে।
এদিকে এখন পর্যন্ত সরকার সঠিক পরিস্থিতি তার অনুক‚লে বলেই মনে করছে। উন্নয়নের স্বার্থে দেশের মানুষ তাদেরকে বেছে নেবে বলে তাদের বিশ্বাস। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি দলকে নির্বাচনে আনা এবং সমমনা দলগুলোকে দিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তাদের। বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করলে বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার কিছু ছাড় দিলে তা বিএনপির পক্ষে আসবে এবং দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে বলেই বিএনপির নেতাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এর সুযোগে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন বলে আস্থাশীল। জানা যায়, তারেক রহমান সর্বশেষ সার্বিক পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব একতরফাভাবে নিজে জানিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here