উদ্ধার অভিযান আটকে পড়া ফুটবলারদের ৬ জনকে উদ্ধার

0
284

উৎকণ্ঠায় সারা বিশ্ব
নিউজ ডেস্ক : গুহায় আটকে পড়া খুদে ফুটবলারদের ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তর থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে পড়ার ১৫ দিন পর স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ১০টায় তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা গুহায় প্রবেশ করে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট ও ৬টার মধ্যে দুই কিশোরকে গুহা থেকে বের করে আনা হয়। দুজন করে ডুবুরির সহায়তায় ওই কিশোরদের গুহা থেকে বের করে আনা হয়। পরে আরো দুজন করে চারজনকে বের করে আনা হয়। থাইল্যান্ড থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গুহার ভেতরে থাকা অস্ট্রেলিায়ার চিকিৎসকরা গুহার ভেতর থেকে সবচেয়ে দুর্বল কিশোরকে আগে বের করে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তুলনামুলকভাবে দুর্বল দুই কিশোরকে বের করে আনা হয়।
গত ২৩ জুন দুপুরে ১২ কিশোর ফুটবালার ও তাদের কোচ ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ থাম লুয়াং গুহায় প্রবেশ করে। ওই দিন সন্ধ্যায়ও ফিরে না আসলে তাদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়। নয়দিন পর ব্রিটেনের দুই ডুবুরি
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছিলেন, কিশোরদেরকে গুহা থেকে বের করে আনার অভিযান বিপজ্জনক। কারণ গুহার নিচে উদ্ধারে পথে অনেক জায়গা পুরোপুরি কর্দমাক্ত, কোথাও ১৬ ফুট পর্যন্ত পানি, কোথাও পুরোটাই পানিতে পূর্ণ, যেখানে কিছুই দেখা যায় না। এ ছাড়াও অনেক স্থান খুবই বিপজ্জনক। এর আগে খুদে ফুটবলারদের উদ্ধারে গুহার পানি সরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
শুসামান গুনান (৩৮) নামের এক ডুবুরি ওই খুদে ফুটবলারদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন এই ডুবুরি।
ইতিপূর্বের খবর ছিল সেই চূড়ান্ত দিন। শুরু হয়ে গেল উদ্ধারের চূড়ান্ত পর্ব। থাইল্যান্ডের ১২ খুদে ফুটবলারকে জলমগ্ন গুহা থেকে বার করে আনার জন্য ১৩ জন অভিজ্ঞ বিদেশি ডুবুরি-সহ মোট ১৮ জন গুহার ভেতরে ঢুকেছেন। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে উদ্ধার অভিযানের দিকে। তাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর নারোংসাক অসোত্তানাকর্ন রবিবার বলেন, “অনেক হয়েছে, আর অপেক্ষা করতে পারছি না। উদ্ধারকারীদের জন্য আজকেই সেই চূড়ান্ত দিন।” স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় উদ্ধারে নামেন ডুবুরিরা। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যে ১৮ জন ডুবুরিকে এই উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে, ফুটবলারপিছু এক এক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, পাম্প করে জল বের করে নেওয়ার ফলে জলের মাত্রাটা নেমেছে।সেই সঙ্গে বৃষ্টি না হওয়ায় গুহার ভিতরে জলের মাত্রা আর বাড়েনি। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছেন তাঁরা। ফুটবলাররা যেখানে রয়েছে সেখান থেকে কিছুটা হেঁটে এসে তার পর সাঁতরে গুহার ভিতর থেকে বেরোতে হবে। উদ্ধারকারীরা আরও জানিয়েছেন, কোনও কোনও জায়গায় গুহার পথ এত সরু যে সেখান থেকে এক সঙ্গে বেরনোর কোনও উপায় নেই। এক এক করে বেরোতে হবে। ফলে এক্ষেত্রেও একটা ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে সাঁতার না জানা খুদে ফুটবলারদের নিয়ে। তবে চিয়াং রাইয়ের গভর্নর জানিয়েছেন, বহু বিপদ এবং ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই উদ্ধারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটা শেষ পর্যন্ত নিতেই হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, ফুটবলাররা এখনও অনেকটাই সতেজ। গুহার ভিতরের অক্সিজেন মাত্রাও ঠিক আছে। আবহাওয়াও অনুকূল। এই সব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই যত শীঘ্র সম্ভব ফুটবলারদের বার করে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে প্রথম জনকে রাত ৯টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে। পুরো উদ্ধারকাজ শেষ হতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
তবে উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, সব কিছু নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর। ফের বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে বিপদ বহু গুণ বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে উদ্ধারের ঝুঁকিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলে সে ক্ষেত্রে পুরো মিশন শেষ করতে আরও অনেক দিন লেগে যাবে। গত শনিবার হঠাৎ করে গুহার ভিতরে জলের মাত্রা নেমে গেলেও সঙ্কট কমেনি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হল গুহার ভিতর থেকে ৪ কিলোমিটারের মতো পথ সাঁতরে আসা। সাঁতার না জানা ফুটবলাররা সে ক্ষেত্রে কতটা সহযোগিতা করতে পারবে ডুবুরিদের, সেটাও ভেবে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। তবে তাঁরা আশাবাদী। যথাসম্ভব ক্ষতি এড়িয়ে ওই পথটুকু পার করার চেষ্টায় আপাতত ব্যস্ত তাঁরা। ২৩ জুন খেলার পরে কিশোর ফুটবল দলকে নিয়ে গুহায় ঢুকেছিলেন কোচ এক্কাপল চান্তাওয়ং। যেমনটা প্রায়শই ঢুকতেন। হড়পা বান আসতে পারে, ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। সেই থেকে ১২ দিনেরও বেশি সময় ধরে লুয়াং ন্যাং নন গুহার ভিতরে আটকে রয়েছেন তারা। সঙ্গে ১২ খুদে ফুটবলার।তাদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল। এরই মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে এক ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাল ছাড়েনি চিয়াং রাই প্রশাসন।ফুটবলারদের কাছে পৌঁছতে গুহার আশপাশে খোঁড়া হয় গর্ত। ড্রিল করে একশোটিরও বেশি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ফেলেন তাঁরা। বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here