পাট ও পাট পণ্য রফতানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ

0
37

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ১০২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। যা গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয় ছিল ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় কিছুটা কম হয়েছে। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৫ কোটি ৫০ লাখ।
বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ইপিবির তথ্য মোতাবেক, গত অর্থবছরে কাঁচাপাট রফতানিতে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার; পাট সুতা ও কুন্ডলী রফতানিতে আয় হয়েছে ৬৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, পাটের বস্তা ও ব্যাগ রফতানি হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ডলারের এবং পাটজাত অন্যান্য পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৯ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।
পাট ও পাট পণ্য রফতানির বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বাসসকে বলেন, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাট পণ্যের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা এখনও পিছিয়ে থাকায় পর্যাপ্ত পাট ও পাট পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না।তবে সরকার মানসম্মত পাট উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নীতি সহায়তার পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্রকরণে নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন,রফতানিমূখী পাট পণ্য বহুমুখীকরণে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।মানসম্মত পাটজাত পণ্য উৎপাদন হওয়ায় রফতানি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজেএমসির চেয়ারম্যান জানান,ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশের জনগণ প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারের প্রতি সচেতন হওয়ায় সেখানে পাট পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এই চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ নতুন নতুন বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন করছে।পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বদেশী পাট পণ্যের কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এসব কারণে পাট ও পাট পণ্য রফতানি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, দেশের অভ্যন্তরে পাটের উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত বীজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেন কৃষকরা অন্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে লাভবান হতে পারেন।এতে তারা পাট উৎপাদনে আগ্রহী হবে এবং উৎপাদনও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাহমুদুল হাসান বলেন, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে সরকারি পাটকলগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রায়াত্ত¡খাতে মোট ২২টি পাটকল চালু রয়েছে এবং বেসরকারিখাতে প্রায় ২০০ পাটকল আছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বেনিন,ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কংগো, কোষ্টারিকা, মিসর, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ইতোপিয়া, গাম্বিয়া, জার্মানি, গোয়েতেমালা, হাইতি, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইরান, জাপান, জর্দান, কোরিয়া, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, মায়ানমার, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সৌদিআরব, সুদান, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাইওয়ান, তাজাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ওগান্ডা, গোয়েতেমালা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনামে পাট ও পাট পণ্য রফতানি করছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here