ত্রিদেশীয় পণ্য পরিবহন ভারত শুল্ক দেবে অর্ধেকেরও কম

0
79

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ত্রিদেশীয় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। তবে নিয়মিতভাবে চালু হতে কমপক্ষে আরো এক বছর লাগবে। সরকারের চলতি মেয়াদে সুদীর্ঘ প্রত্যাশিত পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার চলাচল শুরু হচ্ছে না। ভুটানকে ছাড়াই ভারত এই যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে সম্মত হওয়াকেই বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে এখানেও ভারত তার অর্থনৈতিক স্বার্থ শতভাগ নিশ্চিত করেছে। প্রতি কিলোমিটারে প্রতিটন পণ্য পরিবহনে মাশুল ধরা হচ্ছে অনেক কম। বাংলাদেশের দাবিকৃত মাশুল এর চেয়ে অর্ধেক দিতে ভারত রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ এতেই রাজি হয়েছে। গত মে মাসে বাংলাদেশ-ভারত ও নেপালের মধ্যে পরীক্ষামূলক যান চলাচল সাফল্যজনকভাবে পরিচালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ অংশে সড়ক, মহাসড়কের বিদ্যমান অবস্থায় পণ্যবাহী ভারী যান চলাচল যেমনি ঝুঁকিপূর্ণ হবে, সড়ক, মহাসড়কের জন্যও হবে মারাত্মক ক্ষতিকর। বাংলাদেশ অংশে সড়ক, মড়াসড়ক সংস্কার, উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলক যান চলাচল শুরু করার আগে তিন দেশের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে বৈঠকে সড়ক, মহাসড়ক উন্নয়ন, টোল হার, সপ্তাহে প্রতিদেশ থেকে কতগুলো যান ছেড়ে যাবে, পথিমধ্যে জ্বালানি নেয়া, দুর্ঘটনা ঘটলে চিকিৎসা, গাড়ি/বাস মেরামত, ভিসা প্রভৃতিসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়ে এসেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ প্রতি কিলোমিটারে প্রতিটনে পাঁচ টাকা শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করে। নেপাল এতে সম্মতি জানায়। ভারত আপত্তি তোলে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, একই ভাড়ার হার বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশ থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক ভারতীয় এলাকা অতিক্রমকালে প্রতি কিলোমিটারে প্রতি টনে পাঁচ টাকা হারেই শুল্ক দিতে হবে। একইভাবে নেপালের এলাকায়ও সমহারে নেপালকে শুল্ক দিতে হবে। অভিন্ন রেট বাংলাদেশও পাবে পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক/লরি থেকে।
জানা যায়, বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা থেকে ফুলছড়ি হয়ে নেপালের পানির ট্যাংক পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার এবং নেপাল যেতে ১২০ কিলোমিটার ভারতীয় ভ‚মি অতিক্রম করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভারতে সীমিত পরিমাণে পণ্য রফতানি হয়। নেপাল থেকে আসে আরো কম। তবে নেপাল মংলাবন্দর ব্যবহার শুরু করলে এর পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যাবে। অপরদিকে ভারত থেকে ১৫ লক্ষ টনেরও বেশি পণ্য বাংলাদেশে আসে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সড়কপথে প্রথম তিন বছরে ২৫-৩০ লক্ষ টন পণ্য পরিবাহিত হবে। বেনাপোল থেকে ঢাকা-আখাউড়া, চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রায় চারশ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভ‚মির উপর দিয়ে চলবে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক। ভারতীয় বিপুল সংখ্যক যান চলাচলের ফলে  বাংলাদেশের মোটা অঙ্কের মাশুল আদায়ের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশ প্রতি কিলোমিটারে প্রতি টনে পাঁচ টাকা করে মাশুল প্রস্তাব করে। এই শুল্কহার, আন্তর্জাতিক হারের চেয়ে কম। ২৫ থেকে ৪০ টন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক-লরি চলাচলের ফলে বাংলাদেশের সড়ক, মহাসড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী এর ফলে সড়ক, মহাসড়ক সংস্কারে বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হবে। দুই টাকা করে মাশুল পেলে এই অর্থের পুরোটাই সড়ক সংস্কার খাতে চলে যাবে। এমনকি তার বেশিও লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের কোন লাভ হবে না। বরং লোকসানের বোঝা টানতে হবে। সড়ক, মহাসড়ক সংস্কার উন্নয়ন করতে প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশকে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। নিজস্ব সম্পদ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভারতের জন্য সড়ক, মহাসড়ক খাতে ব্যয় করতে হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here