সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকবে

0
144

কাল মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইন উঠছে
কোন দুর্ঘটনায় কারো প্রাণহানি/ কেউ গুরুত্বর আহত হলে দন্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গন্য হবে। নিয়ন্ত্রণহীন যান চালনা, ঝুঁকিপূর্ন ওভারটেকিং, ওভার লোডিংয়ের কারণে দুর্ঘটনায় যাত্রী, পথচারীর মৃত্যু হলে যানবাহনের মালিক/ প্রতিষ্ঠান, যানচালক ও হেলপার দোষী সাব্যস্ত হবেন। মালিক ও চালক উভয়েই ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা ও দশ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন। চালকের অসর্তকতা বেপরোয়া যান পরিচালনার জন্য পথচারি, যাত্রীর প্রাণহানি ঘটলে যানচালকের সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড বা আজীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মূল আইনেও এ বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনীতে দুর্ঘটনায় যাত্রী, পথচারীর মৃত্যু হলে দায়ী মিনিবাস, বাসসহ অন্যান্য যান চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এতে পনেরটি বিষয়কে অপরাধ চিহ্নিত করে দশ হাজার থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। মিনিবাস, বাসসহ বিভিন্ন যানের চালকের পাশাপাশি মালিকের অর্থদন্ড ও কারাদন্ডের বিধান করা হয়েছে। কাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদিত হবে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার দ্রæত আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হলেও তা যথাযথ কার্যকর করার উপরই নির্ভর করবে নিরাপদ সড়ক। বাস-মিনিবাস মালিকরা নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন। আইন প্রণয়নের পর তাদের ভ‚মিকা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কোন দুর্ঘটনায় কারো প্রাণহানি/ কেউ গুরুত্বর আহত হলে দন্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গন্য হবে। নিয়ন্ত্রণহীন যান চালনা, ঝুঁকিপূর্ন ওভারটেকিং, ওভার লোডিংয়ের কারণে দুর্ঘটনায় যাত্রী, পথচারীর মৃত্যু হলে যানবাহনের মালিক/ প্রতিষ্ঠান, যানচালক ও হেলপার দোষী সাব্যস্ত হবেন। মালিক ও চালক উভয়েই ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা ও দশ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন। চালকের অসর্তকতা বেপরোয়া যান পরিচালনার জন্য পথচারি, যাত্রীর প্রাণহানি ঘটলে যানচালকের সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড বা আজীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মূল আইনেও এ বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। মিনিবাস, বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের হুমকি দেয়। তাদের আন্দোলনের মুখে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে। চালকের অসতর্কতা, নিয়ন্ত্রণহীন যান পরিচালনার জন্য কারো প্রাণহানি ঘটলে দায়ী চালকের শাস্তি কমিয়ে ৩ বছর কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানার সংশোধিত বিধান করা হয়। এরপর থেকে বাস, মিনিবাস, ট্রাক চালকদের বেপরোয়া যান চালানো ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। অসংখ্য দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২ হাজার ১শ। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭শ। ২০১৬ সালে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ৩ হাজার ৯শ। গতবছর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজারের বেশি। পুলিশের রেকর্ডের বাইরে সংঘটিত দুর্ঘটনা হিসেবে নিলে এই সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ভয়বহ উদ্বেগজনকহারে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে চললেও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের তাগিদ বোধ করেনি। এক বছরেরও বেশি সময় আগে তারা প্রস্তাবিত আইনটি ভেটিং এর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়েও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং সম্পাদন করেনি। দু’জন শিক্ষার্থীর করুন মৃত্যুর পর ঢাকাসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নেমে আসার পরই আইন মন্ত্রণালয় দ্রæততম সময়ে ভেটিং শেষ করে গত ১লা আগস্ট সড়ক পরিবহন মন্ত্রাণালয়ে পাঠিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এ কাজটি করতে বাধ্য হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।
প্রস্তাবিত আইনে পুলিশকে বিনা পরোয়ানারায় অপরাধীকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কোন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি /গুরুত্বর আহত হলে দন্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী বিচারযোগ্য হবে। এই আইনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড/ আজীবন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। চালকের বৈধ লাইসেন্স না থাকলে তার শাস্তি হবে দুই বছরের জেল ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা। দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে এবং আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট যানের মালিক, পরিচালানাকারি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবেন। দুর্ঘটনায় সম্পত্তির ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৯০ দিন পর্যন্ত আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় বহন করত হবে। আইন অনুযায়ী ড্রাইভারের কাজের সময় ও বিরতিকাল নির্ধারণ করে দেয়া হবে। ফিটনেসবিহীন যান রাস্তায় বের করা হলে মালিক ও চালকের অর্থদÐ ও কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here