বিএনপির জন্য উভয় সংকট

0
142

গণতান্ত্রিক উদারপন্থী বলে পরিচিত কয়েকটি দলে নামী দামী নেতা রয়েছেন। নেতাদের অনেকের জাতীয়ভাবে একটি পরিচিতি রয়েছে। কারো কারো আন্তর্জাতিক যোগাযোগও ভাল। কিন্তু তাদের সংগঠন নেই। অধিকাংশ জেলায় কমিটি পর্যন্ত নেই। যুক্তফ্রন্ট নামে এরা একটি জোট করার কথা বলছেন অর্ধ বছর ধরে। বলেছিলেন যৌথভাবে রাজনীতি ও নির্বাচন করবেন তারা। ফ্রন্ট গঠনের কাগুজে প্রচারনা ছাড়া ছয়মাসেও কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে পারেননি তারা। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাদের কিছুটা হলেও গুরুত্ব রয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিতে এরা এর সুযোগ নেওয়ারই অপেক্ষায়।আবার এদের মধ্যে বিভক্তির রেখাও দেখা দিয়েছে। ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, রব আলাদাভাবে নির্বাচনী জোট করতে পারেন। নেতৃত্বে থাকবেন বি চৌধুরী। ড.কামাল,মাহমুদুর রহমান মান্না এদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নাও হতে পারেন।
দেশ জুড়ে কোথাও এদের অফিস নেই। কমিটি আছে কয়েকটি জেলায়। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আদালত পাড়ায় পরিচিত।  ড. কামাল হোসেনের  ব্যক্তিগত পরিচিতি ছাড়া রাজনৈতিক, সংগঠনিক কোনই ভিত্তি নেই। সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুর ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক ভিত্তি। বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, গয়েশ্বর রায় আর আওয়ামী লীগর খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুলের তৎপরতায়  মণ্টুর অবস্থাও মৃয়মান। এ অবস্থা নিয়েই ড. কামাল হোসেন সরকার পরিবর্তনে বিবৃতি আর টকশোর পাশাপাশি নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগ মহলের অভিযোগ। ড. কামালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড. মুহাম্মদ ইউনুস। বিএনপি তাদের প্রধান খুঁটি। বিএনপি তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বরাবরই রেখে চলছে। বিকল্প ধারার ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাংগঠনিক অবস্থা অবশ্য ড. কামালের গণফোরামের মতো এতটা সঙ্গীন নয়। মুন্সিগঞ্জে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জেলা ও নোয়াখালীতে মেজর মান্নানসহ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় তাদের কিছু ভিত রয়েছে। তবে বড় দুটি দল থেকে ছাড় না পেলে কোন একটি আসনেও তাদের বিজয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা নেই।বি চৌধুরী সরকারের পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গেও সম্পর্ক রেখে চলেছেন। তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন।
আ.স.ম আব্দুর রবের যৌবনের তেজোদীপ্ত ভরাট গলাও এখন তেজহীন মৃয়মান। নোয়াখালীর রামগতিতে তার কিছু ভোট রয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থনে একবার এমপি ও শেখ হাসিনার সুবাদে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। মৎস্য মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে গাজিপুর সুবিশাল  জলাভ‚মি নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন। বঙ্গোপসাগরে তার মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। দেশের কোথাও তার জেএসডির নাম ঠিকানা নেই। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ।  সমমনা দলগুলোকে নিয়ে জোট করে বিএনপির সাথে আন্দোলন ও সমঝোতায় নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু বিএনপি ছাড় না দিলে বগুড়ায় তার নিজেরই কোন অস্থান নেই। ড.কামালকে নিয়ে তিনি সরকার বিরোধী আন্দোলন ও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে।  বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলে পূর্ববর্তী জনপ্রিয়তা এখন আর নেই। আওয়ামী লীগ তার প্রধান প্রতিপক্ষ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কাদের সিদ্দিকীর শ্রদ্ধা  থাকলেও জেলার ও নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নিতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করার আকাঙ্খা তার বরাবরের।  তাঁর প্রতি ভারতের নিরংকুশ সমর্থনও রয়েছে। ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির সাথে মিলতেও হাত বাড়িয়ে রেখেছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে জামায়াত। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সাথে কোন নির্বাচনী সমঝোতা গড়ে তোলার প্রবল বিরোধী। এই সমস্যা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বলে পরিচিত যুক্তফ্রন্টের  শরিক কয়েকটি দলের । ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, আ. স. ম রব জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি নন কোন অবস্থাতেই। ড. কামাল, মান্না অবশ্য আলাদা অবস্থান থেকে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন ও সমঝোতার নির্বাচনের পক্ষে কাজ করছেন। উদারপন্থী এই দলগুলোর সাথে ঐক্য করা বা বৃহত্তর সমঝোতায় যুগপৎ  আন্দোলন ও নির্বাচন করার পক্ষে বিএনপি। দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির পক্ষে ড. খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মুক্ত অবস্থায় স্বশরীরে ও টেলিফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কথা একটাই, জামায়াত থাকলে তারা নেই। ক্ষুদ্র এই দলগুলোর ভোটের রাজনীতিতে  অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল।  দলগুলোর সারাদেশে সবমিলিয়ে ১ শতাংশ ভোটও নেই। কিন্তু জাতীয়ভাবে শীর্ষনেতাদের একটা পরিচিতি রয়েছে। তাদের একটা ভাবমূতিও রয়েছে। আন্দোলন, নির্বাচনে এর একটা প্রভাব পড়বে জনমনে। তফসিল ঘোষণার আগে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন ও পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করার পক্ষে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একটা অংশ। কিন্তু জামায়াত ২০ দলীয় জোটে থাকলে এই দলগুলো সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে নামবেনা। সরকারের দিক থেকেও এদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে কথাবার্তা চলছে। বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ  না হওয়া বা কোনরকম নির্বাচনী সমঝোতা নাকরা, বিএনপি নির্বাচনে আসুক আর না আসুক তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকারি দল থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উল্লেখযোগ্যকে ছাড় দেয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় বিএনপির জন্যও নতুন সংকট সৃষ্টি রয়েছে। সারাদেশে জামায়াতের ভোট রয়েছে মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় পৌনে পাঁচ শতাংশ। সপ্তম অস্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া যায়। অন্তত বাইশটি আসনে এ ভোট নিয়ামক। বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে এ ভোট পড়লে তাদের বিজয়ের বিপুল সম্ভাবনা। তা নাহলে অর্থাৎ জামায়াত কর্মী, সমর্থকরা ধানের শীষে ভোট না দিলে নৌকা  আটকে রাখা সম্ভব হবেনা। দারুন দোটানায় পড়েছে বিএনপি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here