প্রয়াত নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভিএস নইপল

0
214

উপমহাদেশের অন্যতম প্রতিভাধর সাহিত্যিক বিদ্যাধর সুরাজপ্রসাদ নইপল ওরফে ভি এস নইপলের জীবনাবসান হয়েছে। লন্ডনে তাঁর বাসভবনে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ত্রিনিদাদের এই ঔপন্যাসিকের। কী কারণে মৃত্যু, তা সঠিক ভাবে জানা না গেলেও প্রাথমিক অনুমান, বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে নোবেলজয়ী এই লেখকের।
মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী নাদিরা নইপল একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, যে ভালবাসার মানুষজনের সঙ্গে সারা জীবন কাটিয়েছেন এবং যাঁদের জন্য সৃষ্টিশীল জীবন কাটিয়েছেন, মৃত্যুর সময় তাঁদের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। ২০০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পান নইপল। তাঁর অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘এ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’, ‘ইন এ ফ্রি স্টেট’ ‘এ বেন্ড ইন দ্য রিভার’-এর মতো উপন্যাস। “তিনি ছিলেন সবকিছু অর্জন করা এক কিংবদন্তী। নাইপল যাদের ভালোবাসতেন, যাদের সঙ্গে উদ্যমী ও সৃষ্টিশীল অসাধারণ এক জীবন কাটিয়েছেন, তার শেষ সময়টাও তাদের সান্নিধ্যেই কেটেছে” বলেছেন লেডি নইপল। কালজয়ী এই লেখকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভক্ত ও বন্ধুরা। নইপলে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ‘মেইল’এর সম্পাদক জিওর্ডি গ্রেইগ বলেছেন, “তাঁর মৃত্যুতে ব্রিটেনের সাহিত্য জগতে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। তবে নিঃসন্দেহে তার সৃষ্টি কর্ম চিরদিন রয়ে যাবে। ভ্রমণবিষয়ক অ্যামেরিকান লেখক পল থেরক্স বলেছেন “আমাদের সময়ের অনবদ্য এক লেখককে হারালাম। বিশ্ব সাহিত্য জগতে অনন্য এক লেখক ছিলেন স্যার ভিদিয়া। গল্প বলার অনন্য এক ‘স্টাইল’ ছিল তাঁর। মানুষের জীবনের ‘আইরনি’, দু:খকষ্টের বিষয়গুলো তিনি পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন তাঁর লেখায়। ভিএস নইপলের সমর্থকদের মতে, তাঁর কাহিনীগুলোতে আছে স্বচ্ছতা, সততার সাথে তিনি ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন। উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শবাদ বা ‘গø্যামার’কে দূরে রেখে তিনি লিখেছেন। ভক্তরা স্যার নাইপলকে মনে করেন দক্ষ ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এক লেখক। যিনি ইসলামের নিষ্ঠুরতা, আফ্রিকার দুর্নীতি ও বিশ্বের দরিদ্রতম অংশের দুর্ভোগ নিজ চোখে দেখেছেন এবং সেগুলোর প্রকৃত সমালোচনাও করেছেন। রাজনীতির ভুলগুলোর তিক্ত সমালোচনার পুনরাবৃত্তিও ঘটেছে তাঁর লেখায়। তবে তাঁর সমালোচকেরা মনে করেন, ভিএস নাইপলের লেখা ছিল উগ্রপন্থী এবং সমস্যাগ্রস্ত।
ভিএস নইপলের প্রথম তিনট উপন্যাস সফলতা পায়। তাঁর সেরা উপন্যাস ‘’এ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস’ লিখতে তাঁর তিন বছর সময় লেগেছিল। বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল ১৯৩২ সালের ১৭ই অগাস্ট ত্রিনিদাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। যে দ্বীপে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন সেখানে তখন বর্ণবাদ নিয়ে উত্তেজনা ছিল। তাঁর পূর্বপুরুষ ভারত থেকে ত্রিনিদাদে বসবাস শুরু করেছিল ভৃত্য হিসেবে। একজন হিন্দু হিসেবেই শৈশবে বেড়ে উঠেন নাইপল। নইপলের বাবা শিপেরসাদ ছিলেন সাংবাদিক। শিশু বয়সেই ভিএস নাইপল উইলিয়াম শেকসপিয়ার, চার্লস ডিকেন্স পড়েন বাবার কাছ থেকেই। তাঁর বাবা তাঁকে ইউরোপিয় সাহিত্য পড়ে শোনাতেন এবং লিখতেও উৎসাহিত করতেন। তিনি কুইন্স রয়েল কলেজে পড়াশোনা করেন। স্নাতক পড়ার সময় সরকারি স্কলারশিপ পেয়ে যান ও কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পান নইপল। ১৯৫০ সালে তিনি অক্সফোর্ডে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় হতাশা ও একাকীত্বে ভুগতেন তিনি এবং আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছেন নইপল। তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন তাঁর বাবা। চিঠির মাধ্যমে ছেলের সাথে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। পিতা ও পুত্রের এসব চিঠি ১৯৯৯ সনে প্রকাশ করা হয়। ভিএস নাইপল তাঁর শৈশব নিয়ে লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম তিনটি বই- দ্য মিস্টিক মাসোর (১৯৫৭), দ্য সাফ্রেজ অব অ্যালভিরা (১৯৫৮) এবং মিগুয়েল স্ট্রিট (১৯৫৯) প্রকাশের পর ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। আর এই তিনটি বইয়ের কাহিনীই মূলত ক্যারিবীয় দ্বীপকে ঘিরে। ভিএস নাইপলের লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অ্যা বেন্ড ইন দ্য রিভার’, ‘ইন অ্যা ফ্রি স্টেট’, ‘এন এরিয়া অব ডার্কনেস’,’হাফ এ লাইফ’। ‘এ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস’ তাঁর সেরা কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই উপন্যাসটি লিখতে তাঁর তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান ভিএস নইপল।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here