আত্মপ্রকাশের আগেই যুক্তফ্রন্টে বিযুক্তি

0
147

জন্মের আগেই পাঁচদলীয় যুক্তফ্রন্টে বিযুক্তির ধারা প্রবল আকার নিয়েছে। ড. কামাল হঠাৎ করেই সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত যুক্তফ্রন্টের তিন শরিকই তাঁর সাথে নেই। তবে প্রধান মিত্র বিএনপি তাঁকে রাজনৈতিক সহযোগিতা দিচ্ছে সর্বাত্মকভাবে।
প্রফেসর ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, রবের জে এসডি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের কথা চলছে এক বছর ধরেই। নেতারা কয়েক দফা বৈঠকও করেন। জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও ছোট ছোট এই দলগুলোর নেতারা নিজেরাই ঐকমত্যে আসতে পারছেন না। কারণ প্রধানত স্বার্থের দ্ব›দ্ব। জোটের নেতা হতে ড. কামাল ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী Ñ দুজনই আগ্রহী। দুজনকে কো-চেয়ারম্যান করে সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করার প্রস্তাবও গ্রহণযোগ্য হয়নি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে কাদের সঙ্গে থাকলে সংসদ নির্বাচনে অধিকসংখ্যক আসন পাওয়া যায় এবং ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার নিশ্চয়তা বেশি, এই দিকগুলোই মুখ্য বিষয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে শরিক হতে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী অধিকতর আগ্রহী। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জোটের প্রধানের পদটির দিকে তাঁর দৃষ্টি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব পদে থাকলেও বি. চৌধুরীর আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। জামায়াতকে সাথে করে ২০ দলীয় জোটে শরিক হওয়া নিয়ে বিকল্প ধারায়ও আপত্তি রয়েছে। ড. কামালসহ উদারপন্থী বলে পরিচিত অন্যান্যদের নিয়ে পৃথক জোট করা এবং জোটগতভাবে ২০ দলীয় জোটের সমান্তরাল কর্মসূচি পালনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বিএনপির দিক থেকে। মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়া প্রস্তাবিত যুক্তফ্রন্টের সকল নেতারই জামায়াত নিয়ে আপত্তি রয়েছে। বিএনপি এ পর্যায়ে জামায়াতকে ছাড়বেনা, এমন আভাস পাওয়ার পর জোটগত পৃথক অবস্থান থেকে ২০ দলের সমান্তরাল কর্মসূচি পালন ও সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। বিএনপির এ প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও বি. চৌধুরী, আ স ম রব, কাদের সিদ্দিকীর মধ্যে দোদুল্যমানতা রয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকারসহ বিভিন্ন দাবি অপূর্ণ রেখে বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে নাও যেতে পারে। নির্বাচনে গেলেও বিএনপি যে তাদের প্রত্যাশিতসংখ্যক আসনে ছাড় দেবে এবং নির্বাচনে জয়ী হলে রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থায় যথাযথ মূল্যায়ন পাবে তার শতভাগ নিশ্চয়তা চাচ্ছে বিকল্প ধারাসহ কয়েক শরিক।
বিএনপির নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই নৌকায় পা রাখা দলগুলো নিয়ে তারাও দুর্ভাবনায় আছেন। রাজনৈতিক কারণেই আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলে ড. কামাল হোসেনের দুয়ার রুদ্ধ। অভিন্ন লক্ষে তিনি বিএনপির পাশেই থাকছেন। নির্বাচন সামনে রেখে ক‚টনৈতিক মহলে তাঁর গুরুত্বকে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি। রাজনৈতিকভাবেও ড. কামাল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বিএনপির সমান্তরাল কর্মসূচি দেবেন। ২২শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর কর্মসূচি সর্বাত্মক সফল করতে বিএনপি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে রেখেছে। এতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বি. চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী, রব, মান্নাসহ আরো কতিপয় রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাবেক কয়েকজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, কয়েকজন সাবেক বিচারপতি, ড. কামালের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তবে প্রস্তাবিত যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক বি. চৌধুরী, রব ও কাদের সিদ্দিকীর দল নির্বাচন প্রশ্নে ড. কামাল হোসেনের বিপরীত অবস্থানেই স্থান করে নেয়ার প্রক্রিয়া গুছিয়ে রেখেছেন। এ কারণেই সরকারি দল ড. কামাল ও বিএনপির তৎপরতা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় বলে জানা যায়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here