১৯০ কোটি টাকা টাকার বাড়তি ব্যয়

লেটের দুই কৃতি সন্তান মরহুম সাইফুর রহমান এবং আবুল মাল আবদুল মুহিত। দুজনই অর্থমন্ত্রী, একজন সাবেক, একজন বর্তমানে দায়িত্বরত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সুদীর্ঘকাল থাকার অভিজ্ঞতা দু’জনেরই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা অসামান্য অবদান রেখেছেন। সিলেটের সন্তান উভয়েই। দেশের উন্নতির পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে তারা ভ‚মিকা রেখেছেন। বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে আর্থিক বরাদ্দ দিতে তারা দু’জনই দরাজ দিল। আর এর সুযোগে সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষী মহল ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন।  বিএনপি সরকারের খ্যাতিমান অর্থমন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্ত করার কর্মসূচি নিয়েছিলেন। মহাসড়কের দু’পাশ ছয় ফুট করে প্রশস্ত করার কথা। কিন্তু এই কাজ সঠিকভাবে হয়নি, ব্যাপক অনিয়ম হয়। মৌলভীবাজার থেকে সিলেট অংশে দেড় ফুট পর্যন্ত মহাসড়ক প্রশস্ত করা হয়। অর্থাৎ অর্ধেক কাজই হয়নি। কাজ করা না হলেও পুরো ছয়ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে বলে বিল পরিশোধ করা হয়। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করার পরও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম দুর্নীতির এমনি আরো বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের নিঃশেষ ঘটিয়ে যার মূল্য দিতে হয় সাইফুর রহমানকে। সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময়ে সাইফুর রহমানকে সেই সরকারের অন্যতম সহযোগীর ভ‚মিকা নিতে হয়। বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে পাল্টা বিএনপি গঠনে উদ্যোগী হতে বাধ্য  হয়েছিলেন। যা তাঁর রাজনৈতিক অপমৃত্যু ঘটায়।
বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে বর্তমান অর্থমন্ত্রী এ এম এম আবদুল মুহিতও অনেক কাজ করেছেন। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা করা এর অন্যতম। বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিসর- কোম্পানিগঞ্জ-  ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেই উদ্দেশে। কিন্তু এতে ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সড়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৪৪১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এ প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৫ সালে। ২০১৮ সালে প্রকল্পটি সংশোধন করে ৬২৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। প্রকল্পের দুই অংশের একটিতে ১৩ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট, ১.২৫৮ লক্ষ মিটার মাটির কাজ, ৩৭ হাজার ২শ বর্গমিটার সেøাপ প্রটেকশন কাজ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সয়েল ট্রিটম্যান্ট ওয়ার্ক, সাফের্স ড্রেন, ফুটপাথ, জিও টেক্সটাইল, কংক্রিট সেøাপ প্রটেকশন, টো-ওয়াল, ডিভাইডারসহ বাস বে, সাইন, সিগন্যাল, স্থাপনা অপসারণ, রোড মার্কিং কাজে মোট ২১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেই প্রকল্প সংশোধন করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পে কাজের পরিধি বাড়িয়ে ব্যয়ও বাড়িয়ে নেয়া হয়। নির্মাণ ব্যয়ও অস্বাভাবিক বেশি ৫০ কোটি টাকা বেশি দেখানো হয়। একটি কোম্পানিকে দ্বিতীয় অংশের কাজও দেয়া হয়। এতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয় ৭০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অংশের কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ২২৫ কোটি টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ২৯৫ কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে ভুল ডিজাইন প্রণয়ন এবং ঠিকাদারকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার জন্যই প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here