বিদেশী ক‚টনীতিক ও সংস্থার তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে

0
43

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশী প্রভাব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিদেশী ক‚টনীতিকরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে নির্বাচন,রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছেন। রাজনীতিবিদদের বক্তব্য,অভিযোগ শুনছেন। ক‚টনীতিকদের পাশাপাশি কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা তৎপরতাও বেড়েছে। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বিএনপির নেতারা মাঝে মধ্যেই বৈঠকে বসেন। ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. মঈন খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ কয়েকটি দেশের ক‚টনীতিক ও জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে মাঝে মধ্যেই কথা বলে থাকেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন করে খালেদা জিয়ার বিচার অনুষ্ঠান নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিদেশী ক‚টনীতিকদের ব্রিফ করা হয়। এর কিছুদিন আগেও নিরপেক্ষ সরকার সহ বিভিন্ন দাবির কথা বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের বিএনপির পক্ষ থেকে জানান হয়। বিদেশীরা তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি সঙ্গতভাবেই। তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারেন।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, বিদেশী ক‚টনীতিক ও সংস্থার তৎপরতা বরাবরই কমবেশি ছিল। কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম অতীতের যেকোন সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতা, বিদেশ নির্ভরতা বৃদ্ধির কারণেই বিদেশীরা এখানে তৎপরতা বাড়ানোরও সুযোগ পেয়েছে। পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে এ দুর্বলতা প্রকটভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলশ্রæতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবকে ঢাকা এসে রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। সহযোগিতার হাত ভারত সাম্প্রতিকালে আরো প্রশস্ত করে রেখেছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর  আন্তর্জাতিক সমর্থন সহযোগিতা জরুরি হয়ে দেখা দেয়। ক‚টনৈতিকভাবে সরকার তা অর্জনে সক্ষমতা দেখিয়েছে। এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিবেশীসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন, সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে সরকার ও বিরোধী কয়েকটি দল।
অপরদিকে সরকারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রধান ভরসাই আন্তর্জাতিক সমর্থন। বিদেশী সমর্থন সহযোগিতা পেতে তারা অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার বিরোধী তীর্যক আক্রমণাতœক ভূমিকায় থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক ময়দানে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। তাদের উপর সরকারের নিপীড়ন, নির্যাতনমূলক আচরণের অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার, জেলে থাকা, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতারসহ  নির্যাতনমূলক আচরণ মোকাবেলায় দলটির নেতা কর্মীরা ব্যাপক জনমত, আন্দোলন সংগঠিত করতেও পারেনি। গ্রেফতার, হামলা, মামলার ঝুঁকি দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনার অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার লক্ষণীয় ব্যতিক্রম দেখা গেছে। দলটির নেতাদের অধিকাংশেরই মনেভাব, আচরণে কর্মী মহলেও আন্দোলন প্রশ্নে তাদের আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশী কোন মিত্রের কাছ থেকেও তারা তেমন কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে সমমনা কোন কোন দল থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির নেতৃতাধীন ২০দলীয় জোটে বিভক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভ‚মিকা রাখতে জাসদ এর জন্ম দেয়া হয়েছিল। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে ভারতের রাজনীতিবিদ ও সংস্থার পরম বিশ্বস্ত, ঘনিষ্ট সম্পর্ক মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকেই। ড.কামাল হোসেনের সাথেও তারা ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করে চলেন। মার্কিন প্রশাসনেও তার যোগাযোগ,প্রভাব রয়েছে। ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায়ই। বিএনপিতে তিনি ভারত ঘেষা বলেই অধিক পরিচিত। এরশাদের সাথে ভারত সরকার ও তাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা‘র’-এর বিশ্বস্ত সম্পর্ক তাঁর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার আগে থেকেই। জোট সরকারের মন্ত্রী থাকাকালে ব্যরিষ্টার নাজমুল হুদা ভারত বিরোধী ভূমিকা রাখলেও ক্ষমতা হারানোর পর তার মনোভাবেও পরিবর্তন এসেছে। কর্নেল (অবঃ) অলিসহ ২০দলীয় জোটভুক্ত কয়েকটি দল এবং তাদের বাইরের কয়েকটি ইসলামী দলের পাশাপাশি সরকার ঘেষা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গেও ভারত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। প্রশাসনেও তাদের বিশ্বস্ত লোক রয়েছেন। বর্তমান সরকার ভারতের পরম বন্ধু হিসেবে পরীক্ষিত। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে সক্রিয় থাকার প্রেক্ষাপটে ভারতীয়রাও অধিক মাত্রায় তৎপর। একইভাবে সক্রিয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here