১৪ দল মহাজোটে আসন বণ্টনে দরকষাকষি

0
73

জোটবদ্ধ এবং দলীয়ভাবেÑ দুই ধরনের নির্বাচনেরই প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০ দল ও ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, রব, মান্নার জোট এবং ড. কামাল জোটবদ্ধ বা বৃহত্তর সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও এরশাদসহ মহাজোটের শরিকরা জোটবদ্ধভাবেই নির্বাচন করবে। শরিক ও অন্যান্যদের কত আসনে ছাড় দেয়া হবে শীর্ষ পর্যায়ে তাও চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। দলগতভাবে নির্বাচন করা হলে কত আসনে দলীয়ভাবে এবং কতগুলো আসনে সমঝোতা করা হবে তাও চ‚ড়ান্ত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, শরিকরা অধিকসংখ্যক আসন দাবি করলেও বিভিন্ন বাস্তবতায় সকলের মধ্যেই সমঝোতার মনোভাব থাকায় আসন বণ্টন নিয়ে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না।
১৪ দল ও মহাজোটের শরিকরা অধিক সংখ্যক আসন লাভের জন্য আওয়ামী লীগের সাথে দর কষাকষি শুরু করেছে। কোন কোন দল তা জোরালোভাবেই করছে। শরিক দলগুলো আওয়ামী লীগের কাছে দুইশ’র বেশি আসনে মনোনয়ন চেয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও তাদের দাবি পূরণ করতে গেলে আওয়ামী লীগের থাকবে একশ’র কম আসন।
আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি দলই বর্তমান আসনসমূহ ধরে রাখা এবং অধিকসংখ্যক আসনে দলীয় মনোনয়ন চায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এ নিয়ে শক্ত দর কষাকষিতে যাচ্ছে না কেউই। তবে তারা বর্তমান আসনগুলো নিশ্চিত করতে চায়। আওয়ামী লীগ থেকে সহনশীল মনোভাব দেখানোর পাশাপাশি এ বার্তাও শরিকদের দেয়া হয়েছে যে, আগামী নির্বাচন ৫ই জানুয়ারির মতো হবে না। বিএনপি এখন যাই বলুক শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবে এবং সেক্ষেত্রে নির্বাচন হবে শক্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ। আওয়ামী লীগের দলগত ও ১৪ দলের শরিকদের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা, প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও দলগত জনপ্রিয়তা, আর্থিক অবস্থা, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থাসহ আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়েই মনোনয়ন চ‚ড়ান্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগ পারস্পরিক সমঝোতার ব্যাপারে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং মনোনয়ন নিয়ে ১৪ দলে সমস্যা হবে না বলে মনে করে। তবে কারো কারো দর কষাকষি ও শক্ত অবস্থান সন্দেহ জাগিয়েছে। একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন তারা। এরশাদের জাতীয় পার্টির ১শ আসন দাবি এবং ৭০টির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে থাকার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। চর মোনাইয়ের পীরের পার্টিসহ অর্ধশতাধিক দল নিয়ে এরশাদ একটি জোট করেছেন। এই জোটের পার্টিগুলো নাম ও প্যাড সর্বস্ব। জেলা পর্যায়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটিও নেই। এদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য জাতীয় পার্টি অধিক সংখ্যক আসনে মনোনয়ন চায় বলে মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ৫০টির বেশি আসনে ছাড় দেয়ার কথা ভাবছে না। তবে বিএনপি জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত না করলে জাতীয় পার্টিকে আরো দুই থেকে তিনটি আসনে ছাড় দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে জামায়াতসহ ২০ দলভুক্ত চারটি ইসলামী দলকে জোট থেকে বের করে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া সফল বলে আওয়ামী লীগকে ১০টি আসনে ছাড় দিতে হবে। এলডিপির কর্নেল অলি ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সাথেও আলোচনা চলছে। বিকল্প ধারার সাথে ওবায়দুল কাদেরের পরবর্তী আলোচনা হবে আসন নির্ধারণী। আওয়ামী লীগ সিপিবি, বাসদকে নির্বাচনী মাঠে কয়েকটি আসনে ছাড় দিতে আগ্রহী। অধিকসংখ্যক পার্টির অংশগ্রহণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্যই সরকারি দল উদার মনোভাব নিয়েছে। সরকারের এই দুর্বলতার সুযোগে ১৪ দলের ছোট ছোট শরিকরাও অধিকসংখ্যক আসনে মনোনয়ন চাচ্ছে। সাংগঠনিক ভিত্তি না থাকলেও দিলীপ বড়–য়ার সাম্যবাদী দলও চারটি আসনে মনোনয়ন চেয়েছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি ছয়টি, রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি ত্রিশটি, ন্যাপ আটটি, বাসদ (একাংশ) ছয়টি, গণতন্ত্রী পার্টি বারটি, জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) পঁচিশটি, জাসদ (ইনু) ত্রিশটি, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি চারটি, গণআজাদী লীগ নয়টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র দুটি, তরিকত ফেডারেশন পনেরটি আসনে মনোনয়ন চেয়েছে।
আওয়ামী লীগের সুবিধা হচ্ছে শরিকরা দর কষাকষি করলেও জোট ছেড়ে ভিন্ন অবস্থানে যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। ১৪ দলের নেতারা মনে করেন আসন বণ্টন নিয়ে মনকষাকষিতা থাকলেও তাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি নেই।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here