সোনাদিয়া পরিত্যক্ত হচ্ছে : পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর হবে

0
81

নিজস্ব প্রতিবেদক : পায়রা সমুদ্রবন্দরকে গভীর সমুদ্র বন্দরে পরিণত করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নাও করা হতে পারে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এই বন্দরের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, চীন, ভারত এবং আরো কয়েকটি দেশ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারত এরিমধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এ অর্থ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় করা  হবে। পায়রা বন্দরকে ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণ গভীর সমুদ্র বন্দরে পরিণত করার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এই সমুদ্রবন্দরের গভীরতা হবে ১৮ মিটার। ১১ মিটার ও তার বেশি গভীরতার জাহাজ এখানে যাতায়াত করতে পারবে। ২০২১ সালের মধ্যে পায়রাকে সমুদ্রবন্দরে পরিণত করা হবে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলছে। নৌবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ নির্ধারিত সময় ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাস্তবায়ন কাজ করছে। দেশের অর্থনীতিতে পায়রা সমুদ্রবন্দর বিশাল অবদান রাখবে। বিপুল জনশক্তির কর্মসংস্থান হবে। কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান এরিমধ্যে হয়েছে।
পায়রা বন্দরে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও মেইনটেন্যান্স ড্র্িেজংয়ের কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ এ কাজের জন্য বেলজিয়ামের জান-ডে-লু নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়েছে। তারা ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও মেনটেইন্যান্স ড্রেজিং করবে। সমুদ্রে বাইশ কিলোমিটারসহ ৩২ কিলোমিটার চ্যানেল করা হবে। খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে তারা কাজ করবে। বাংলাদেশ সরকারকে তাদের বিশাল বিনিয়োগের জন্য সার্বভৌম গ্যারান্টি দিতে হবে। এ ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় দীর্ঘ সময় নেয়ায় কাজের কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হচ্ছে না। তবে নৌ মন্ত্রণালয় আশা করছে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠানটি পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারবে।
এদিকে পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ ড্রেজিং-এর কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তেঁতুলিয়া, কাজল ও আন্দারমানিক নদীর ড্রেজিং-এর কাজ প্রায় নব্বই শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে বহিঃবন্দর থেকে লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে বন্দরে পণ্য পরিবহন করা যাবে। বর্তমানে বহিঃবন্দর থেকে বিশটি পণ্যবাহী জাহাজের পণ্য লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে বন্দরে আনা হয়েছে। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রায় ২৭ কোটি টাকা আয় করেছে।
পায়রা বন্দরের জন্য ষোল একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আরো বত্রিশ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সার্ভিস ইয়ার্ড, ওয়্যারহাউজ, সার্ভিস জেটি, ডরমেটরি, প্রশাসনিক ভবন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ জরুরি কাজসমূহ সম্পন্ন করা হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here