আজ থেকে আমরা কাছে এলাম সম্পর্ক আরও গভীর হলো

0
13

ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনাকে মোদি
নিউজ ডেস্ক : ভিডিও করফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম আর সম্পর্ক আরও গভীর হলো। আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজের উদ্বোধন করা হয় গতকাল সোমবার বিকাল ৫টায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করেন। বিকালে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হয়। এ অনুষ্ঠানে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারেও একমত হয় দুই পক্ষ। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অংশ নেন। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দু জনেই বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে তার কোনো দ্বিমত নেই। ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ উদ্বোধন : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লী থেকে সোমবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডে এ বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাই ভোল্টেজ ডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশনের দ্বিতীয় পর্যায়েরও উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া, বংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ কাজও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৌলবীবাজার জেলার কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্পেরও নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা সোমবার বিকালে হলেও রোববার মধ্যরাত থেকেই পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে নতুন আসা ৫০০ মেগাওয়াটের ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করবে ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (এনটিপিসি)। এনটিপিসির সঙ্গে ইতিমধ্যে পিডিবির চুক্তি সই হয়েছে। বাকি ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে দেশটির বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ আমদানি-রফতানির জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশনের (পিটিসি) মাধ্যমে। পিটিসির সঙ্গে এখনও চুক্তি সই হয়নি। তাই এই বিদ্যুৎ আসতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। গত ১১ এপ্রিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর আওতায় আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এনটিপিসি থেকে কেনা বিদ্যুতের মূল্য হবে স্বল্পমেয়াদে প্রতি ইউনিট চার টাকা ৭১ পয়সা এবং দীর্ঘমেয়াদে ছয় টাকা ৪৮ পয়সা। পিটিসির সরবরাহ করা বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি দর স্বল্পমেয়াদে চার টাকা ৮৬ পয়সা ও দীর্ঘমেয়াদে ছয় টাকা ৫৪ পয়সা ধার্য হয়েছে। ২০১৩ সালে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। বর্তমানে ভারত থেকে ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। যার মধ্যে ৫০০ মেগাওযাট পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে। আর ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে ১৬০ মেগাওয়াট আমদানি হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here