মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টিতে ২৩৮ কোটি টাকার ক্রয়

0
52

চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে আমদানী ও রপ্তানী পণ্য উঠানামা প্রায় বিশ শতাংশ হারে বেড়েছে। দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। এ কারণে সীমিত পরিমাণে  আধুনিক যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম সংযোজন করে বন্দর তা কুলিয়ে উঠতে পারছেনা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিউমুরিং কনটেইনার টারমিনালের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দশটি গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ করছে। এই ক্রয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিউমুরিং কনটেইনার টারমিনালের মাধ্যমে পণ্য উঠানো-নামানোর কাজ স্বল্প সময়ে সম্পাদনের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এজন্য দশটি গ্যানট্রি ক্রেন, দশটি হাই ষ্ট্রাডল ক্যরিয়ার, বিশটি রাবার টায়ার্ড গ্যানট্রি ক্রেন, একটি রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন, চারটি সাত টনের রীচ স্টেকার, পাঁচটি কনটেইনার মুভার ও একটি মোবাইল হারবার ক্রেন কেনার কর্মসূচি নেয়া যায়। এজন্য প্রয়োজন দুই হাজার কোটি টাকারও  বেশি। বিশাল এই ব্যয় একসঙ্গে সংস্থান করা সম্ভব নয় বলে চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রথমে দশটি গ্যানট্রি ক্রেন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ব্যয় পড়ছে ২শ ৩৮কোটি টাকার বেশি। এগুলো কেনার জন্য আহুত আন্তর্জাতিক দরপত্রে একটি চীনা ও আরেকটি জাপানী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চীনা প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সাংহাই জেনজুয়া হেবি ইন্ড্রাষ্ট্রি কোম্পানী লিমিটেড এবং জাপানী কোম্পানীটি হচ্ছে মেসার্স সুমিটমো কর্পোরেশন। চীনা কোম্পানীর দর ছিল ২৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর সুমিটমোর রেট ছিল ২৫০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। দুই কোম্পানীর দামে বড় ধরনের পার্থক্য না থাকলেও প্রধানত্ব চীনা কোম্পানীর রেট অপেক্ষাকৃত কম বলে তাদের অফার বিবেচনায় নেয়া হয়।  অথচ জাপানী কোম্পানী উল্লেখিত রেট বন্দর কর্তৃপক্ষের  প্রাক্কলিত দাপ্তরিক দর অপেক্ষা ৮শতাংশ কম ছিল। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি জাপানী কোম্পানীর অফার অপেক্ষাকৃত অধিকতর উন্নত ও গ্রহণযোগ্য বলে মত রাখেন। গুণগত ও মানগত দিক বিবেচনায়ই তারা এই মত দেন। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হয় জাপানি কোম্পানীর সাত বছরের ওয়ারেন্টি এবং চীনা কোম্পানীর মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টির বিষয়। জাপানী  কোম্পানী যন্ত্রপাতি, মেশিনারি ইনষ্টলেশন, টেষ্টিং, কমিশনিং, সংরক্ষণ, মেরামত, টুলস ও এক্্রসেসরিজ সরবরাহ করবে  চালু করার পরবর্তী সাত বছর পর্যন্ত। জনবল প্রশিক্ষিণও দেবে তারা। পক্ষান্তরে চীনা কোম্পানী একাজগুলো করবে মাত্র এক বছর। এর পরে তারা কোন দায় নেবেনা। অর্থাৎ চীনা কোম্পানী যেখানে মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি দেবে সেখানে জাপানী কোম্পানী সাত বছরের ওয়ারেন্টি দেয়ার অফার দেয়। তারপরও তাদের অফার বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here