দুই পক্ষের সামনেই কঠিন চ্যালেঞ্জ

0
48

রাজনৈতিক বক্তৃতা বিবৃতিতে আক্রমন-পাল্টা আক্রমন চললেও ভেতরে ভেতরে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়াও  চলছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য বিএনপি অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা মুখে যত কথাই বলুন আলোচনার বিরোধী তারাও নন। এ ব্যাপারে সরকারের উপর কার্যকর চাপ সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী শক্তির মাধ্যমে সরকারকে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসাতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও করছে। কিন্তু সাংবিধানিক ব্যবস্থার বাইরে ও আদালতের এখতিয়ারধীন কোন বিষয়ে সরকার প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য কোন আলোচনায় বসবেন না। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক কোন মহল থেকে সরকারের উপর এব্যাপারে কোন চাপ আসবেনা বলেই সরকারি মহল আস্থাশীল। বিএনপির নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা আন্দোলনের হুমকি দিলেও সরকারের কাছ থেকে কিছু দাবি আদায় করতে পারাই সাফল্য হিসেবে নিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার স্বচ্ছ মন নিয়ে আসলে আলোচনায় একটা ফয়সাল সম্ভব। সরকারি দল এরিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মেজর (অবঃ) মান্নানের পর আ স ম রব, কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ, এইচ এম এরশাদসহ আরো কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন ওবায়দুল কাদের। কারো কারো সঙ্গে আলোচনায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমু, ড. আবদুর রাজ্জাক থাকতে পারেন। এরশাদ সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানত আসন বন্টন নিয়েই ছিল এ বৈঠক। বিএনপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের ব্যাপারেও সরকার পক্ষ সময় ক্ষেপনের পক্ষে। দ্রুত আলোচনা না বসে তফসিল ঘোষণার আগে তারা বিএনপির সঙ্গে বসতে আগ্রহী। বিএনপিকে বৈঠককে পুঁজি করে আন্দোলনে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায়না সরকার। নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করবে। এরিমধ্যে বিএনপি যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে তীব্র আক্রমনাতœক কোন কর্মকান্ড চালায় তাহলে তাদের সঙ্গে সরকার বৈঠকে নাও বসতে পারে। বিএনপি কোনরকম হিংসাতœক কর্মকান্ডের প্রবল বিরোধী। শান্তিপূর্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকারকে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করতে চায়। ভয়টা এখানেই। পুরো পাঁচ বছর সরকার বিরোধী আন্দোলন রাজপথে করতে পারেনি বিএনপি। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন সোহরাওয়ার্দী  উদ্যানে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। এখন শেষ বেলায় রাজপথ উত্তপ্ত করা এবং সরকারকে দাবি মেনে নিতে বাধ্য করার মতো কর্মসূচি, কর্মকান্ড পরিচালনা করা তাদের পক্ষে কতটা সম্ভব সে প্রশ্নও রয়েছে। পুলিশী অভিযান ধর পাকড়ের সামনে তারা কতটা সাহসী ভূমিকা নিতে পারেন তাও পর্যবেক্ষন সাপেক্ষ। বিএনপির কেন্দ্র, জেলা থেকে নিয়ে তৃনমূলের নেতা কর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে তাদের মত ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। যে বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে রেখেছে, তাহলো দীর্ঘদিনের নির্যাতন,  নিষ্পেশনে জর্জরিত এবং নতুন করে গ্রেফতার নির্যাতনের মুখে কর্মীরা মাঠে নেমে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। পুলিশ, র‌্যাবও আক্রমনাতœক রুপে আবির্ভূত হতে পারে। সে ধরনের মুখোমুখি সাংঘর্ষিক  অবস্থায় দুই পক্ষ বড় ধরনের সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে। তার চেয়ে বড় ভয় তৃতীয় পক্ষ  এর সুযোগ নিয়ে মারাতœক গোলযোগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। যার দায় এড়ানো রাজনৈতিকবিদদের পক্ষে এড়ানো কঠিন হবে। দেশি বিদেশী বিভিন্ন সন্ত্রাসী, জঙ্গি সংগঠন এ ব্যাপারে সক্রিয় হতে পারে। কুচক্রী মহল একটা পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশে তাদের ব্যবহারও করতে পারে। পরিস্থিতিও সামাল দিতে সরকার রাজপথের আন্দোলন দমিত করতে পারে। নির্বাচনের আগখানে সরকার ব্যাপক কোন হিংসাতœক পথে যাবেনা বলে বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করেন।
নির্বাচনকালীন সরকার অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থায় থাকবে বলে পুলিশের উপর তাদের নির্ভরতা অনেক বেশি বাড়বে। রাজপথে বিএনপির আন্দোলনের টার্গেট পুলিশও হতে পারে। বিশেষ করে সন্ত্রাসী, জঙ্গী গোষ্টীকে দিয়ে স্বার্থান্মেষী মহল টার্গেট করে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আইন আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। এর সুযোগ নিতে পারে তৃতীয় পক্ষ।  সম্ভাব্য এ অবস্থাটা নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বিএনপিও চিন্তিত। এ কারনে সরকার ও বিএনপিকে আলোচনার টেবিলে বসাতে বিদেশীরাও আগ্রহী। বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগে তৃতীয় পক্ষের মদদে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিএনপি, আওয়ামীলীগ কারো জন্যই সুখকর পরিনতি ডেকে আনবেনা না।  এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকেই বিবেচনায় নিয়ে নমনীয়তার পথে আসতে বাধ্য করছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় সরকার ও বিএনপি অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় যদি বসে তাতে সরকার পক্ষ খুব বেশি ছাড় দেবেনা। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ কিছু বিষয়ে সরকার উদারতা দেখালেও অন্যসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানেই থাকবে।জানা যায়, সংসদ বহাল রাখা হবে। নির্বাচনকালীন সরকারও হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ২৫এ নামিয়ে আনা হবে। সংসদ বহাল রাখা হলেও এই সংসদের কোন সদস্য যাতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা না পান তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here