দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়া সমৃদ্ধ হবে : প্রধানমন্ত্রী

0
198

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপ লাইন উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন দুই দেশের সহযোগিতার ইতিহাসের মাইলফলক। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল মঙ্গলবার বিকালে যৌথভাবে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইনের উদ্বোধন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, বর্তমানে আমদানিকৃত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হতে খালাস করে চট্টগ্রাম ডিপোতে সঞ্চয় করে রাখা হয়। পরে কোস্টাল ট্যাংকে করে খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে আনা হয়। সেখানে আনলোড করে আবার রেলের ওয়াগনে আপলোড করে নিয়ে যাওয়া হয় পার্বতীপুরে। এই প্রক্রিয়ায় পরিবহন জনিত সমস্যা, অতিরিক্ত সময় এবং অর্থের অবচয় হয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনলে এই তিন ক্ষেত্রেই সাশ্রয় হবে। ভারতের শিলিগুড়ি হতে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপ লাইন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ডিজেল ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি কার্যকর হবে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি সংক্রান্ত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি গত বছরের ২২ অক্টোবর স্বাক্ষরের পর এ বছরের ৯ এপ্রিল সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রথমে আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে প্রথম তিন বছর ধরে। পর্যায়ক্রমে এ সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে শেষ পাঁচ বছর ৪ লক্ষ মেট্রিকটনে উন্নীত করা হবে। বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের আমদানি এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। নুমালীগড় রিফাইনারী উক্ত পাইপ লাইনের মাধ্যমে ১৫ বছরের জন্য ডিজেল সরবারহ করবে। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এ সময় বর্ধিত করা যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ২ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি হতে অনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে গত জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৫৪ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপ লাইনের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। তারা নিজ নিজ দেশের রাজধানী থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। ঢাকায় কর্মকর্তারা জানান, এই পাইপ লাইন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া, দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পৃথক-পৃথক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। ভারতীয় এলওসি’র অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনের অধীন ট্রেন পরিচালনার লক্ষ্যে সেকশনাল ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিকরণ এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মিত হলে সমন্বতি ও গতিময় ট্রেন সার্ভিস প্রবর্তনের মাধ্যমে শহরতলী এবং অন্যান্য জেলাসমূহের যাত্রী সাধারণের রাজধানী ঢাকায় স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সময় সাশ্রয়ী যাতায়াত সম্ভব হবে। প্রকল্পটিতে ভারতীয় এলওসি’র বরাদ্দ ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকার খরচ করবে ২০৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।যাত্রী সাধারণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক সংখ্যক ট্রেন চালু করার লক্ষ্যে ঢাকা-টঙ্গি সেকশনে ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। ফলে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।এ প্রকল্পে নির্মিতব্য অবকাঠামোসমূহ রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, টঙ্গী-জয়দেবপুর হয়ে উত্তরাঞ্চল এবং চট্রগ্রাম ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও গতিময় করার ক্ষেত্রে ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর ফিডার সেকশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এফকন্স-কল্পতরু যৌথভাবে কাজটি করবে। চুক্তির মেয়াদ কাজ শুরুর তারিখ হতে ৩৬ মাস।এতে এমব্যাংকমেন্টসহ ৯৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মিত হবে। এ ছাড়া কালভার্ট ২৫টি, প্লাটফর্ম ৬টি, প্লাটফর্ম সেড ৬টি, ফুটওভার ব্রীজ ১২টি, স্টেশন বিল্ডিং ৪টি এবং অন্যান্য পূর্ত কাজ করা হবে। অপর এক সরকারি তথ্য বিবরনীতে জানানো হয়, বর্তমানে আমদানিকৃত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হতে খালাস করে চট্টগ্রাম ডিপোতে সঞ্চয় করে রাখা হয়। পরে কোস্টাল ট্যাংকে করে খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে আনা হয়। সেখানে আনলোড করে আবার রেলের ওয়াগনে আপলোড করে নিয়ে যাওয়া হয় পার্বতীপুরে। এই প্রক্রিয়ায়, পরিবহণজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত সময় এবং অর্থের অপচয় হয় উল্লেখ করে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনলে এ তিনটারই সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া, জ্বালানি নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে এ পাইপলাইন কার্যকর অবদান রাখবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি সংক্রান্ত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি গত বছরের ২২ অক্টোবর স্বাক্ষরের পরে চলতি বছরের ৯ এপ্রিলে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এ পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রথম তিন বছর ২ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এ সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে শেষ পাঁচ বছর ৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে। বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের আমদানি এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। নুমালীগড় রিফাইনারি ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৫ বছরের জন্য ডিজেল সরবরাহ করবে। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এ সময় বর্ধিত করা হবে। ভারতের শিলিগুড়ি হতে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনে চলতি বছরের আগস্ট-ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ভারত হতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে আমদানি করা হবে আশা করা হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here