বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেনা আওয়ামী লীগ

নির্বাচনকালীন সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি করেছেন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ। সরকার তাদের এ দাবিসহ বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার বাইরে কোন পদক্ষেপ নেবে না। সংবিধানসম্মতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য থাকবেন ২২ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ জন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে সরকারি ও বিরোধী দলগুলো প্রস্তুতিমূলক কাজ গুছিয়ে আনছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকার নির্বাচনী  কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্ব নেবে। নভেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। ভোট গ্রহণের দুটো বিকল্প তারিখের প্রস্তাব রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটের দিন নির্ধারিত হবে।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকালীন সরকার সর্বাধিক পঁচিশ সদস্যের হবে। ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ও তার শরিকদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। রাজনৈতিক ময়দানে সরকারি দল ও বিএনপির নেতারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখলেও আওয়ামী লীগ নেতারা আস্থাশীল যে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। তাদের সঙ্গে নির্বাচনের আগে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হবে। বিএনপি নির্বাচনে এলে সরকারের দিক থেকে তাদেরকে নির্বাচনকালীন অন্তবর্তী সরকারে প্রতিনিধিত্ব দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হতে পারে। রাজনৈতিক ময়দানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতারা ভিন্নতর কথা বললেও উচ্চ পর্যায়ে জানা যায়, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আন্তরিকতা দেশে বিদেশে তুলে ধরার স্বার্থে সরকার কিছু ছাড় দেয়ার কথা বিবেচনায় রেখেছে। এ ব্যাপারে ভিন্ন চিন্তাও কাজ করছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নির্বাচনকালে বিএনপির ও তার সহযোগীরা সরকার থেকে সরে গিয়ে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। যা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে।
সরকারি দল ও জোটের বাইরে তিনজন প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির কোটায় নেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এদের একজনকে নেয়া হতে পারে সুশীল সমাজ থেকে। রাজনীতির বাইরে থাকা ড. ফরাস উদ্দিন অথবা ড. আতিউর রহমান এদের মধ্যে রয়েছেন। দুজনই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নতুন সরকারে নাও থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে উল্লেখিত দুজনের একজনকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রনালয় পরিচালনা দক্ষতার ছাপ রেখেছেন এমন রাজনৈতিক নেতারা থাকবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার,  রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আইমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকারের শরিক ও সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দলগুলোর প্রতিনিধিও সরকারে থাকবেন। এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে ব্যরিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সরকারে থেকে যাচ্ছেন। জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদ (ইনু) এর হাসানুল হক ইনু নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন বলে জানা যায়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here