ভারতীয় পণ্য পরিবহন সুবিধা দিতে বাংলাদেশের ২৪৪ কোটি টাকার প্রকল্প

0
40

যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ আগামী বছরের জানুয়ারিতেই শুরু হচ্ছে। দুটি প্যাকেজে ২৪৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ দেয়া হয়েছে তমা কনস্ট্রাকশন এন্ড কোম্পানি লিমিটেডকে। এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং তাঁর বড় ভাই আজিজ খান।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের জন্য মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবই রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।  ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তমা কনস্ট্রাকশনকেই বেছে নেয়।
প্রকল্পের আওতায় ৩৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ, ৩৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার হার্ডশোল্ডার নির্মাণ, সড়ক বাঁধে ৪ দশমিক ৯১১ লক্ষ ঘনমিটার মাটির কাজসহ অন্যান্য কাজ করা হবে। দুটি প্যাকেজের আওতায় ২০ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণ, ২০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে হার্ডশোল্ডার নির্মাণ, ২০ কিলোমিটার সড়ক বাঁধে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৬ হাজার ঘনফুট মাটির কাজ, ২০ কিলোমিটার সড়কে রোড সেফটিসহ আনুসঙ্গিক কাজসমূহ সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পের দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৩ লক্ষ টাকা। দুটি প্যাকেজে মোট ব্যয় হচ্ছে ২৪৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। অথচ প্যাকেজ দুটোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে মোট ৩০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৬২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বেশি অব্যয়িত থেকে যাচ্ছে। সড়কের প্রশস্ততা কমিয়ে আনার ফলেও ব্যয় কমেছে।
মূল পরিকল্পনায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বড় অংশে দু’পাশের গাছগুলো কেটে সড়ক প্রশস্ত করার কথা ছিল। কিন্তু হাইকোর্ট তাতে আপত্তি জানান। তারা দীর্ঘদিনের পুরোনো গাছগুলো না কাটার এবং গাছ রেখেই সড়ক প্রশস্ত করার নির্দেশ দেন। সড়কের পাশের বৃক্ষ কর্তন না করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সড়কের প্রশস্ততা ১০ দশমিক ৩ মিটার হতে পরিবর্তন করে ৯ দশমিক ১০ মিটার প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১১ দশমিক ৯১ কিলোমিটার সড়ক মাত্র ৭ দশমিক ৩ মিটার এবং ২৬ দশমিক ২৯ কিলোমিটার সড়ক ৯ দশমিক ১০ মিটার প্রশস্ত হবে। বৃক্ষগুলোকে বাঁচাতে গিয়েই সড়ক প্রশস্তকরণ কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে নির্মাণ ব্যয়ও যেহারে কমার কথা তা হয়নি। প্রায় ৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রাক্কলন ছিল। কিন্তু পুনঃদরপত্রে তা হয়নি দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে মূলত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক-লরির চলাচলের সুবিধার্থে। এতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতকারি যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, অপেক্ষাকৃত নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দে যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন। বাণিজ্যিক-আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হবেন ভারতীয় রফতানিকারক, ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। পণ্যবাহী ভারতীয় যানবাহন বেনাপোল দিয়ে ঢুকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক প্রশস্ত হলে যানবাহন চলাচলে সুবিধা হবে। বাংলাদেশের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনও এই সুবিধা পাবে। তবে বাংলাদেশ থেকে পণ্যবাহী যান কমই যায়। এই সুবিধাটা একচেটিয়াভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাই পাবেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো অর্থ যোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। মহাসড়কটি রক্ষণাবেক্ষণে বছরে ব্যয় হবে ৬০-৭০ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকেই তা মেটাতে হবে। ভারতীয় পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থানের মহাসড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়ক, মহাসড়ক সংরক্ষণ, সংস্কার কাজে বিশাল অংকের অর্থ প্রতিবছর বাংলাদেশকেই বহন করতে হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here