যুক্তফ্রন্টের নামে দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে ॥ নিউইয়র্কে শেখ হাসিনা

0
42

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে। যুক্তফ্রন্টের নামে দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে। তবে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। নৌকা মার্কাই জয়ী হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তা দিতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। রোববার আমেরিকার নিউইয়র্কের হোটেল হিলটনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড়ের মধ্যে গত শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে নাগরিক সমাবেশ হয়। সেখানে বিএনপি, বিকল্পধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি দল অংশ নেয়। সরকারবিরোধী এই ঐক্য নিয়ে সা¤প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বললেন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানিয়ে আসা বিএনপির নেতারাও ওই সমাবেশে যোগ দেন। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সংলাপে বসে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে সরকারকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয় ওই সমাবেশ থেকে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “এরা সব এক জায়গায়। কেউ সুদখোর, কেউ ঘুষখোর, কেউ মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত, কেউ খুনি। এভাবে সব আজকে এক জায়গায়। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা লড়াই করবেন! কামাল হোসেন লড়াই করবেন? বি চৌধুরী লড়াই করবেন? মান্না লড়াই করবে?”
সমাবেশে মইনুল হোসেনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তার সাথে গেছেন মইনুল হোসেন। সে আবার কাকরাইলের বাড়ির জমি দখল করে; সে জায়গা নিয়ে মামলা আছে। সাজু হোসেন ভার্সেস রাষ্ট্র। সে মামলায় সে সাজাপ্রাপ্ত।” আর ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে এক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে দখল নেয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা সবগুলো এখন এক জায়গায় হয়েছে!”
গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এমডি মুহাম্মদ ইউনুসেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়েন না। কারণ, এমডির পদ ছাড়লে তো গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা মারা যাবে না।”
আলোকচিত্রি ড. শহিদুল আলমের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আলোকচিত্রী শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দিয়েছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর নীতির কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের নীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রæতা নয়। বিশ্বের সকল দেশের সাথে সফল কূটনৈতিক সম্পর্কসৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব সমাজকে এন্টারপ্রেনিউর হিসেবে আত্মপ্রকাশ আজ বাংলাদেশকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তিনি সরকারের নানামুখি উন্নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, তার তিন টার্ম শাসন কালে গণতান্ত্রিক সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিস্ময়কর উন্নতি বাংলাদেশকে আজ একটি নিন্মমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরীত করেছে। যা আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হবে বলে বিশ্বসূচকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করবো। বাংলাদেশ ডিজিটাল হচ্ছে। আমরা কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছি, ৮০ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিচ্ছি, মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন রান্না চলে বিদ্যুতে, রিক্সা চলে ব্যাটারিতে। বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব নেই, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, সবাই শান্তিতে আছেন। এখন আমাদের সমস্য হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সব উন্নয়নের কথা বলে ভোট বাড়াতে হবে, ইমেজ বাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি এলে দুর্নীতি হয়, স্বজনপ্রীতি হয়। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেকের দুর্নীতির কথা আমেরিকায় প্রমাণ হয়েছে। তার শাস্তি হয়েছে। খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ মেরেছেন। যে কারণে তিনি জেলে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আলোকচিত্রী শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দিয়েছিলেন।
সংবর্ধনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য। এই আইনের জন্য সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। সাংবাদিকরা শুধু সাংবাদিকদের স্বার্থ দেখলে হবে না। সামাজিক সমস্যা দূর করতেই এই আইন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেশের উন্নতি করি, আর বিএনপি আগুন সন্ত্রাস করে মানুষ পুড়িয়েছে, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের নির্মম ও বর্বর হত্যাকান্ড, ধর্ষন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে নির্যাতনে শিকার হয়ে রোহিঙ্গা আসছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাওয়াতে পারি, ৯ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবো না কেন? শরনার্থীকে আশ্রয় প্রদান, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি, স্বেচ্ছাসেবক দিয়েছি।
তিনি বলেন, মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে, নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্যই আমি এখানে এসেছি।
এর আগে জাতিসংঘ ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটা নাগাদ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী যান নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে। সফরকালে সেখানেই অবস্থান করবেন তিনি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে শান্তিপূর্ণ কূটনীতিক প্রচেষ্টার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিস এবং গেøাবাল হোপের কাছ থেকে দুটি পুরস্কার গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here