নোবেল শান্তি ডেনিস এবং নাদিয়াকে

0
213

যুদ্ধে যৌন সন্ত্রাসের লড়াইয়ের স্বীকৃতি
নিউজ ডেস্ক : ইরাকের ইয়াজিদি উপজাতি গোষ্ঠীর মেয়ে পঁচিশ বছরের নাদিয়া মুরাদ। আইএস জঙ্গিদের হাতে বারংবার ধর্ষিতা এবং অত্যাচারিত হয়েছিলেন। তবুও থামানো যায়নি নাদিয়াকে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে, মেয়েদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইতে তিনি এখন সারা দুনিয়ার পরিচিত প্রতিবাদী মুখ। তাঁর সেই লড়াইকে সালোম জানিয়ে ২০১৮ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রাপক হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করল নোবেল কমিটি।
তাঁর সঙ্গে এই সম্মান ভাগ করে নিচ্ছেন কঙ্গোর ৬৩ বছরের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডেনিস মুকওয়েগে। নিজের উদ্যোগে গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত কঙ্গোতে অসংখ্য অত্যাচারিত ও ধর্ষিতা মহিলাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছেন ডেনিস মুকওয়েগে। যৌন অত্যাচারের শিকার মহিলাদের বাঁচাতে দিনে দশটি অপারেশন করার নজিরও আছে এই অক্লান্ত হার না মানা চিকিৎসকের। এক হাজারেরও বেশি মহিলাকে একার হাতে বাঁচিয়ে তোলার অনন্য নজির আছে এই চিকিৎসকের।
অন্য দিকে মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নোবেল শান্তি পুরষ্কারে সম্মানিত হলেন নাদিয়া মুরাদ। ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন ১৭ বছরের মালালা ইউসুফজাই। তাঁর পর নাদিয়াই সর্বকনিষ্ঠ।
নাদিয়ার জীবনের লড়াই-ও মালালার থেকে কোনও অংশে কম নয়। উনিশ বছর বয়সে তাঁর গ্রামের ৬০০ ইয়াজিদি পড়শিকে তাঁর চোখের সামনে খুন হয়ে যেতে দেখেছিলেন নাদিয়া। তাঁর ছয় ভাইকেও হত্যা করেছিল আইএস জঙ্গিরা। আর নাদিয়াকে অপহরণ করে যৌনদাসী হিসেবে অত্যাচার চালাত আইএস জঙ্গিরা। ইরাকের মসুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে নিয়মিত ধর্ষণ, পুড়িয়ে দেওয়া সহ আরও নানা নারকীয় অত্যাচার চালোনা হতো। এক দিন দরজা খোলা দেখে কোনও রকমে পালিয়ে বাঁচেন নাদিয়া। সেখান থেকে উত্তর ইরাক হয়ে কোনও রকমে জার্মানিতে গিয়ে পৌঁছন তিনি। সেখানেই শুরু হয় তাঁর জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস। সারা পৃথিবীর যুদ্ধবিদ্ধস্ত এলাকায় মহিলা ও শিশুদের যৌন হেনস্থার হাত থেকে বাঁচাতে তৈরি করেন নাদিয়া’স ইনিশিয়েটিভ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here