ভারত চায় রোহিঙ্গারা দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যাক : হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

0
17

নিউজ ডেস্ক: ‘ভারত চায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাক। সব মৌলিক অধিকার ভোগ করুক’ বলেছেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শ্রিংলা।
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। আমি আশা করছি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জন্যে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বরাত দিয়ে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের বাসভূমিতে ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত তিন দফায় তাদের মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এ মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’
ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আরো বলেনএই সুন্দর শহরে এসে আমি খুব আনন্দিত, যেখানে প্রধান দুই নদী পদ্মা-মেঘনা এসে মিশেছে। এই দুই নদী ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের জীবনে মূল্যবান ভূমিকা রেখেছে।
আমি শুনেছি চাঁদপুরের ইলিশ মাছ বাংলাদেশ এবং ভারতেও সুপরিচিত। আমি চাঁদপুরের ইলিশ মাছের স্বাদ নিতে আগ্রহী।  ফরক্কাবাদ ডিগ্রী কলেজের নবনির্মিত একতলা ‘মহাত্মা গান্ধী ভবন’ দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি।  ভারত সরকারের অর্থায়নে এক কোটি টাকার মূল্যমানে এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে।
ভবনটি শিক্ষাদানের জন্য এবং মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভবিষ্যতে এই ভবনটি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনতলার ভিত্তি দেয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২০১৭ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরকালে এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছিলেন।
তিনি বলেন আমি মনে করি, মহাত্মা গান্ধীর নামে নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানটি একদম সঠিক সময়ে হয়েছে।
ঠিক তিন দিন আগেই, অক্টোবরের ?দুই তারিখে আমরা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী পালন করেছি।
গান্ধীজীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে আমরা বছরব্যাপী কিছু অনুষ্ঠান আয়োজন করতে থাকব। আজ আমি এটা বুঝতে পেরেছি যে, এই নবনির্মিত ভবনটি ইতোমধ্যে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের ফরক্কাবাদ ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হতে উৎসাহিত করবে।
আমি বিশ্বাস করি যে, চাঁদপুরের জনসাধারণের উচ্চশিক্ষা অর্জনে এই ‘মহাত্মা গান্ধী ভবন’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার জন্য আমি শ্রী সুজিত রায় নন্দীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসারিত করতে সবসময় সচেষ্ট।
এসময় উপস্থিত ছিলেন– চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির প্রমুখ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here