মাঠ প্রশাসন প্রস্তুুত

0
12

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন সাজিয়ে নেয়া হয়েছে। দু’ সপ্তাহ আগে দশজনকে জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এদের নিয়ে ষাটটি জেলায় ষাটজন জেলা প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন তাদের পরিকল্পনা মাফিক বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কোন কোন জেলা প্রশাসক পদে পরিবর্তন করতে পারেন। সে চিন্তায় জেলা প্রশাসকদের বিকল্প তালিকাও করে রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনেও গত কয়েক মাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদেও ব্যাপক নিয়োগ রদবদল, বদলি করা হয়েছে। চল্লিশ জনের মতো অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নতুন নিয়োগ ও বদলি করা হয়েছে। দেড় শতাধিক উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ ও বদলি করা হয়েছে। সুষ্ঠ‚, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠ প্রশাসনে যথাযথ পরিবর্তন আনা হলেও একই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন কিছু পরিবর্তন-রদবদল করতে পারে। সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কোন কোন এলাকায় ইউএনও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ভুমিকা রাখতে পারেন মর্মে অভিযোগ আশঙ্কা থেকে নির্বাচন কমিশন মাঠ প্রশাসনকে প্রশ্নমুক্ত রাখতে উদ্যোগী হবেন। বিএনপি ও তার সহযোগীরা নির্বাচনে অংশ নিবেন  তারা মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি করবেন। বর্তমান মাঠ প্রশাসনে সরকার তার পরিকল্পনা মাফিক রাজনৈতিকভাবে অনুগত বিশ্বস্তদের দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। মন্ত্রী, এমপি প্রভাবশালী নেতাদের তদবিরে অনেক জেলা উপজেলা কর্মকর্তাদের নিয়োগ বদলি হয়ে আসছে শুরু থেকেই। নির্বাচনের আগে নিজেদের পছন্দের অফিসারদের নিজ নিজ জেলা, উপজেলায় নেয়ার ব্যাপারেও রাজনৈতিক নেতাদের ভ‚মিকা রয়েছে। সব রাজনৈতিক সরকারের আমলেই যেমনটি হয়েছে এবারেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
মাঠ প্রশাসনে, বিশেষ করে উপজেলায় কর্মরত নির্বাহী অফিসারদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আগেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ছাত্রজীবনে কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিনা পরবর্তীতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সে সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হয়েছে। পরিবারের কোন সদস্য স্বাধীনতা  মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা কোন আত্মীয়তা আছে কিনা সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসন থাকবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, তারাও নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত অফিসারদের নির্বাচনী দায়িত্বে রাখতে চান। কোন অফিসারের সততা, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কমিশন তাঁকে সরিয়ে আনবে। মাঠ থেকে কেন্দ্রে পুলিশ প্রশাসনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, পদোন্নতি, পদায়ন করা হয়েছে। এডিশনাল আইজিপি, ডিআইজি, এডিশনাল ডিআইজি, এসপি ও এডিশনাল এএসপিকে পদোন্নতি, পদায়ন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ পদে শতাধিক থানায় রদবদল করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন কিছু পরিবর্তনও আনতে পারে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here