বরিশাল শের-ই-বাংলা জাদুঘর ভারতীয় হাই কমিশনার

0
59

ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা গতকাল রোববার বরিশালের বানারিপাড়ায় শের-ই বাংলা ফাউন্ডেশনে পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, আমি আজ শের-ই-বাংলা ফাউন্ডেশনে আসতে পেরে খুব খুশি। আমি জানি অনেকেই এখানে অপেক্ষা করছিলেন এবং আমাকে না দেখে হতাশ হয়েছিলেন। বরিশাল বিভাগের গত সফরকালে, আমার সময়সূচিতে অপ্রত্যাশিত বিলম্বের কারণে আমি এখানে সময় দিতে পারিনি। এই কারণে, আমি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজুকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এই এলাকা পরিদর্শন করবো বলে কথা দিয়েছিলাম।  আজকে শের-ই-বাংলা জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি খুবই অবিভূত হয়েছি। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২) তাঁর সময়ের এক জনপ্রিয় গণনেতা ছিলেন। ১৯১৬ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অনেক ভারতীয় নেতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।ঔপনিবেশিকতার প্রতিবাদে, তিনি ব্রিটিশ সরকারের দেয়া সমস্ত খেতাব ও নাইটহুড বর্জন করেছিলেন। বরং, তিনি শের-ই-বাংলা নামে জনপ্রিয় পরিচিত ছিলেন। অত্যন্ত শিক্ষিত একজন ব্যক্তি এবং সফল আইনজীবী, শের-ই-বাংলা সকলের জন্য শিক্ষাবিষয়ক সুযোগ প্রদানের কাজ নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি বরিশাল অঞ্চলে এবং ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর জনগণের প্রতি ভালবাসা তাঁকে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে চালিত করেছিল। রাজনৈতিক ও উন্নয়নের কাজ তাঁর উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।  আমি জেনে খুব খুশি হয়েছি যে, শেরে-ই-বাংলা ফাউন্ডেশন তাঁরই সুযোগ্য দৌহিত্র এ কে ফাইয়াজুল হক রাজুর সভাপতিত্বে এই অঞ্চলের জনগণ ও স¤প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমি শের-ই-বাংলা ফাউন্ডেশন এবং এর চেয়ারম্যান এই এলাকার জনগণের জন্য তাঁদের সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের সাফল্য কামনা করি।
তিনি আরো বলেন, তারাবাড়ি শক্তিপীঠ থেকে বরিশাল বিভাগে আমার দ্বিতীয় সফর শুরু করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।  গত মাসে, আমি মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বরিশালে এসেছিলাম। সময়স্বল্পতার কারণে তখন আমি এখানে আসতে পারিনি। আসন্ন দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে, আজকে এই শক্তিপীঠে এসে পূজা করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।  এই শক্তিপীঠ বরিশাল বিভাগের অন্যতম প্রাচীন মন্দির। ভারত থেকেও ভক্তরা এই মন্দিরে পূজা দিতে আসেন।  আমি দেখে খুব খুশি হয়েছি যে, স্থানীয় জনগণ তাঁদের সীমিত সম্পদ দিয়ে এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। আজ আপনাদের সাথে এখানে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
দুর্গাপূজার আর বেশি দেরী নেই। আমি আপনাদের সবাইকে ও আপনাদের আত্মীয়, বন্ধু, পরিজনদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আমরা সকলেই আমাদের উৎসবগুলো একত্রে উদযাপন করি।
এই পূজা আমাদের সকলের জন্য এবং ভারত-বাংলাদেশের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, সুখ ও আনন্দ বয়ে আনুক।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল ২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু, সভাপতি, শের-ই-বাংলা ফাউন্ডেশন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here