সরকারকে চাপে ফেলে কিছু আদায় করার শক্তি বিএনপি হারিয়ে ফেলেছে

0
60

একান্ত সাক্ষাৎকারে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান
সরকারের মন্ত্রীদের দৃঢ় বিশ্বাস বিএনপি ও তার সহযোগীরা ময়দানে যত কথাই বলুন নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন। বিএনপির সামনে এর বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাদের প্রমান করতে হবে যে, নাশকতা, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। বিরোধীরা যত কর্মসূচিই পালন করুক অসাংবিধানিক কোন দাবি সরকার কোন অবস্থাতেই মেনে নেবে না।
আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি ১৪ দলের শরিক দলের নেতারাও নির্বাচন প্রশ্নে তাদের অভিন্ন অবস্থানের কথা জানান। শরিক তিন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অবশ্য তাদের নাম প্রকাশে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি খোলাখুলিই বলেন, জামায়াতকে প্রধান সঙ্গী করে বিএনপি দেশজুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যা, তাদের সম্পদ ধ্বংস, ত্রাসের যে রাজত্ব কায়েম করেছিল তাতে দেশের মানুষের কাছে বিএনপি নামটিই আতঙ্ক। তাদের ডাকে দেশের মানুষ আর সাড়াও দিচ্ছে না।
যত কর্মসূচি আর হুঙ্কারই দেয়া হোক, সরকারকে চাপে ফেলে কিছু আদায় করার শক্তি বিএনপি হারিয়ে ফেলেছে। যে কারণে ড. কামাল আর ডা. বি চৌধুরীর নেতৃত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য না করার আহŸান জানিয়ে বলেন, বিএনপি এখনও জামায়াতকে পরিত্যাগ করেনি। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করার মাধ্যমে অস্ত্র, বোমা, জামাতীদের দিয়ে ড. কামালদের পুষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছে। যা দেশ ও জনগণের জন্য সরাসরি হুমকি। শাজাহান খান মনে করেন, বিএনপি ও তার সহযোগীরা নির্বাচনে অংশ নেবে। গণতন্ত্রের কথা বলে তারা এতদিন যে নাশকতা, সন্ত্রাস, হত্যাকাÐ চালাল সে সম্পর্কে তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই উপলব্ধি জাগ্রত হয়েছে। তারা সত্যিকারভাবে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত।
নির্বাচনে সরকারি দল কারচুপি, জালিয়াতির আশ্রয় নিতে পারে, বিরোধীদের এ আশঙ্কার জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার কারচুপি করে থাকলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হারল কেন। রাজশাহীতেও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার কথা স্বীকার করেছেন। যা প্রকারান্তরে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে।
বিএনপিসহ অন্যদের নির্বাচনে আনার ব্যাপারে সরকার তার দায়িত্ব কি এড়াতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, সবাইকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব সরকারের একার নয়। নির্বাচনে কেউ আসবে কি আসবে না সেটি তাদের ব্যাপার। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুসারে। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করবে। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও আরো কয়েকটি দল যেসব অযৌক্তিক, অসাংবিধানিক দাবি উত্থাপন করেছে তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। কোন আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সংবিধান পরিপন্থী কোন কার্যক্রম সরকার গ্রহণ করবে না।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির ব্যাপারে তিনি বলেন, আইনগতভাবে তিনি জামিন পেলে, মুক্তি লাভ করলে সরকারের আপত্তির কিছু নেই।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here