বিবেকবান মানুষ রায়কে ফরমায়েশি বলতে পারেন না : কাদের

0
42

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, কোনো বিবেকবান মানুষ এই রায়কে ফরমায়েশি রায় বলতে পারেন না। এ সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ২১ আগস্টের খুনের দায়ে দন্ডতি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী কোন নৈতিকতায় ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন? গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সড়ক পরিবহন অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে যাঁরা গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলেন, যাঁরা আইনের শাসনের কথা বলেন, কথায় কথায় নৈতিকতার কথা বলেন, খুনিদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য করবেন, এই জাতীয় ঐক্যে জনগণ কোনো দিনও বিশ্বাস করবে না, সমর্থন করবে না। তিনি আরও বলেন, ‘২১ আগস্টের খুনিরা, মাস্টারমাইন্ড-প্ল্যানার যাবজ্জীবন কারাদন্ড। তিনি (তারেক রহমান) যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সেই দলের সঙ্গে কোন নৈতিকতায় ঐক্য করেন? এই খুনি দলের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী আপনারা তথাকথিত জাতীয় ঐক্য করছেন?’সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি কি খুনি, দন্ডতি, আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের হাতে ন্যস্ত হবে? আমার বিশ্বাস, এই জাতীয় ঐক্য বাংলাদেশের জনগণ কোনো দিনও গ্রহণ করবে না। এই ধরনের জাতীয় ঐক্য যারা করে, তারা কত নীতি-নৈতিকতাহীন, দেউলিয়া রাজনৈতিক দল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং একই সূত্রে গাঁথা বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে ‘ফরমায়েশি’ রায় বলে গতকাল বুধবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব যা ইচ্ছে তা-ই বলছেন। তিনি (ফখরুল ইসলাম) বলছেন, এই রায় ‘ফরমায়েশি’ রায়। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুরা, আপনারাই বলুন, এই রায় কি ফরমায়েশি রায়? বাংলাদেশের বিবেক আছে এমন একজন মানুষ কি বলবে এই রায় ফরমায়েশি?’২১ আগস্ট বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৪ বছর পর এই রায় হয়েছে। আমি এখনো নামাজের সেজদা দিতে পারি না। পঙ্গু করে দিয়েছে আমাদের সারা জীবনের জন্য। অনেকে আছেন, যাঁরা হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে আমরা সন্ত্রাসের স্বীকার। ক্ষমতায় আপনারা, আলামত নষ্ট হলো কেমন করে? হামলাকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল কেমন করে? বলুন? বিচারপতি জয়নাল আবেদিন তদন্ত কমিটি করে রিপোর্ট দিলেন কী? প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজ করেছে।’জজ মিয়া বিষয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, একটি ভবঘুরে ছেলেকে রাস্তা থেকে ধরে এনে জজ মিয়া নাটক সাজানো হলো। ইতিহাস কি বলে এটা ফরমায়েশি রায়? ২৪ জনের প্রাণ চলে গেছে, এটা ফরমায়েশি রায়? প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা একটি কানের শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন, এটা কি ফরমায়েশি রায়? মুফতি হান্নান নিজেই বলেছে তারেক রহমানের নির্দেশ নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, এটা কি ফরমায়েশি রায়? খুনি তাজউদ্দিনকে নিরাপদে বিদেশে পাঠানো হলো, এটা কি ফরমায়েশি রায়? খালেদা জিয়া দায় এড়াতে পারেন না মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজে। তিনি কি দায় এড়াতে পারেন? এটা কি ফরমায়েশি রায়? যে গ্রেনেডগুলো অবিস্ফোরিত, সেগুলো কেন ধ্বংস করা হলো? কে ক্ষমতায় ছিল? এটা কি ফরমায়েশি রায়? জবাব দেবেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি জড়িত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আদালতের রায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন দÐিত হয়েছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনিও এ দায় থেকে রক্ষা পেতে পারেন না। তাঁরও সাজা হওয়া উচিত ছিল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গ্রেনেড হামলাকারী, এর মদদদাতা ও খুনিদের সঙ্গে কোনো ঐক্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না। এই ঐক্য টিকবে না। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় গত বুধবার তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসি হয়। যাবজ্জীবন কারাদÐ হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের। বাকি ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here