মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ার থেকে ক্ষতিকর বিকিরণ বন্ধ হয়নি

0
31

 মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ার থেকে ক্ষতিকর বিকিরণ বন্ধ হয়নি। মাত্রাতিরিক্ত বিকিরণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এখনও নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিকিরণের এই মাত্রা ক্যান্সার সহ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালার পরিপন্থী  বলে সংস্থাটি এতে উদ্বেগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই মাত্রাতিরিক্ত বিকিরন বন্ধ করতে বলেছে। বিটিআরসির নির্দেশে কোম্পানীগুলো সাময়িক ব্যবস্থা নেয়ার পর এখন আবার আগের অবস্থায় চলছে। অর্থাৎ বিকিরন বন্ধ হয়নি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, দুটি মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ার  থেকে অস্বাভাবিক বিকিরন পাওয়ার ঘটনা উদঘাটিত হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশনকে জানানোর পরও রহস্যজনকভাবে তারা প্রায় এক বছর নীরবতা পালন করে। হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ এ ব্যাপারে হাইকোর্টের জরুরি নির্দেশনা চেয়ে রীট করে। হাইকোর্ট আনবিক শক্তি কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর টাওয়ার পরিদর্শন করে র‌্যাডিয়েশনের উপর প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। আনবিক শক্তি কমিশন তিনটি কোম্পানীর চারটির বেজ ট্রান্সফার ষ্টেশনে মাত্রাতিরিক্ত বিকিরণ পেয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরুপ এই বিকিরন মাত্রা নিয়ন্ত্রনে আনতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সরেজমিনে ও রাসায়নিক পরীক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত বিকিরন পায়। অবিলম্বে বিকিরণের  মাত্রা নামিয়ে আনতে সুপারিশ করা হয়।
জানা যায়, হাইকোর্টের সুষ্পষ্ট নির্দেশের পরও বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেয়নি। আনবিক শক্তি কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের পরও তারা মুঠোফোন কোম্পানীগুলোকে বিকিরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়নি।  নয়মাস পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বিটিআরসি মুঠোফোন কোম্পানীগুলোকে বিকিরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে বলে। এক বছর তারা এই নির্দেশ মেনে চলে। বেজ ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক বিকিরন লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু তারপরই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। বানিজ্যিক স্বার্থে মুঠোফোন কোম্পানীগুলো মাত্রাতিরিক্ত বিকিরণ চালু রেখেছে। কিন্তু এতে ক্যান্সারসহ মারাতœক সব রোগ জীবানু ছড়ানোর ভয়ঙ্কর দিকটি তারা বিবেচনায় নিচ্ছেনা। মানবাধিকার সংস্থাটি মুঠোফোন কোম্পানীর এই চরম অমানবিক ও বানিজ্যিক আচরনের বিরুদ্ধে আবার হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে তারা বিষয়টি অবহিত করেছে। বিটিআরসি কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর বেজ ট্রান্সফার স্টেশনগুলো মনিটর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছরেও তারা তা করেনি। মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর সাথে গোপন দফারফায় তারা এই চরম অসাধু পন্থার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here