সৌদি বাদশার সঙ্গে বৈঠক হবে শেখ হাসিনার

0
25

প্রধানমন্ত্রী ওমরাহ করতে যাচ্ছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। সৌদি আরব অবস্থানকালে সৌদি বাদশাহ ক্রাউন প্রিন্স সালমানসহ রাজপরিবারের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগেও সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ওমরাহ হজব্রত পালনের জন্য মক্কা শরীফ যাচ্ছেন। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হবে ২৫ থেকে ২৭।
সৌদি বাদশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল। তিনি শেখ হাসিনাকে বোন বলে সম্বোধন করেন। শেখ হাসিনার গভীর ধর্মপরায়নতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সৌদি আরবের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের কারণেই সৌদি বাদশা এবং রাজপরিবার শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রতি গভীরভাবে সহানুভ‚তিশীল। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তারা আনন্দবোধ করেন। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশীদের ওকামা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমস্যা লাঘবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান এবং আগামীর সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়। বিএনপি ও তার নতুন সহযোগীদের আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের হুঙ্কার সরকারকে বিচলিত করতে পারেনি। তাদের শক্তি সামর্থ সম্পর্কে সরকারের স্পষ্ট ধারনা আছে বলেই তারা নিরুদিগ্ন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেসব দাবি রেখেছে তার অধিকাংশই সংবিধান বহিভর্‚ত। এগুলো পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। নতুন করে আইন প্রণয়ন করতে হবে। সরকার সে পথে যাবেনা। বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার বাইরে কোন বিষয়েই তারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও বসবেনা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উন্নত যোগাযোগ ও সম্পর্ক রক্ষাকারি ড. কামাল হোসেনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে আনার মূখ্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন, সহানুভ‚তি সংগ্রহ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কোন দেশই সাংবিধানিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিরোধীদের সাথে সমঝোতায় আসার জন্য সরকারের উপর কোন চাপ সৃষ্টি করেনি। কোন আইনগত বিষয়েও তারা কোন প্রশ্ন তোলেনি। কোন ধরনের চাপের কাছে সরকার কোনরকম নতি স্বীকার করার কথা ভাবছেওনা। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিনিধিত্বশীল সকল দলের অংশগ্রহনে ও ব্যাপক সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে প্রকৃত অর্থেই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তাদের এই প্রত্যাশার কথা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা জানিয়েছেনও। বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিদেশীরা। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে বিরোধীদের প্রস্তাব নিয়ে সরকার অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসলেও তাদের মূল দাবিসমূহ নিয়ে কোন পর্যায়ে আলোচনা পাবেনা। তফসিল ঘোষণার পর সে সুযোগও থাকবেনা।
চার দলের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আলোচনায় বসা ও দাবি পূরণে বাধ্য করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা তারা কতটা সফল করতে পারেন দেশি বিদেশি সকলেই গভীর আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করছেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার শুরুতেই যে অনৈক্যের সানাই বেজেছে তাতে অনেকেই খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেননা। সকল দায় দায়িত্ব মাথায় নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরই রাজপথে নামতে হবে। পুলিশী কঠোরতার মুখে তারাও কতটা দৃঢ়তার সাথে মাঠে থাকতে পারবেন সে প্রশ্নও রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here