আসাম, ত্রিপুরায় ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশি প্রস্তাবে রাজি নয় নয়াদিল্লী

0
27

ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৈষম্য ৩২ হাজার কোটি টাকায় ছাড়িয়ে গেছে। গত এক বছরেই এই বৈষম্য ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। বাংলাদেশকে প্রতিশ্রæত বাণিজ্য সুবিধা না দেয়ার কারনেই বাংলাদশের প্রতিক‚লে বাণিজ্য যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যে জড়িতদের সূত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানীর উপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যেহারে নতুন করে শুল্ক আরোপসহ নানা বাধা সৃষ্টি করছে এবং ভারত থেকে আমদানী যে বিপুল পরিমাণে বেড়েছে তাতে আগামী দু’বছরের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশী পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ক, মাশুল বাধাসমূহ অপসারণ, শুল্কহার কমিয়ে এনে বাণিজ্য বৈষম্য হ্রাসের অঙ্গীকার করেছিলেন। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী, সচিব পর্যায়ে বৈঠকেও বাংলাদেশের প্রস্তাব দ্রæত বিবেচনার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রæতি রক্ষায় কোন পদক্ষেপই নেয়নি। বরং উল্টো কাউন্টার ভেলিং ডিউটিসহ নতুনভাবে বেশ কয়েকটি পণ্যে ডিউটি আরোপ করেছে। বিদ্যমান শুল্ক হার একতরফাভাবে বাড়িয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের আমদানীকারকদের বাংলাদেশে সরাসরি অর্ডার দেয়া নিয়ন্ত্রিত করেছে। আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের ব্যবসায়ীরা রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের পণ্য রফতানীর কার্যাদেশ দিতে পারতেন। সিমেন্ট, ওষুধ, লেদার, সাবান, বিটেল পার্টস, গার্মেন্টস সামগ্রী, অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি, ফলমূল, পাট, পাউডার, তাঁতের শাড়ি, পাটজাত পণ্য, ইট, ফার্টিলাইজার, লেদার, সোপ, কেমিক্যাল, জুন ইয়ান অ্যান্ড টোয়াইন, হিমায়িত মাছ, ইলিশ মাছ, ওভেন গার্মেন্টস, পিভিসি ব্যাগ, কভারওয়্যার, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন পন্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এসব রাজ্যে। গুণগতভাবে উন্নত মানসম্পন্ন এবং ভারতীয় একই পণ্য অপেক্ষা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।
বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে পাঁচটি ফ্যাক্টরী স্থাপনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় ভারতীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে যৌথভাবে শিল্প কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ওষুধ ও দু’টি সিমেন্ট তৈরির কারখানা রয়েছে। রাজ্য সরকার এতে সম্মাতিও দিয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বানুমতি নেয়ার শর্ত রয়েছে। রাজ্য সরকার থেকে তিনটি প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু নয়াদিল্লী তাতে সম্মতি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। ভারতের শিল্পপতিদের এতে প্রবল আপত্তি রয়েছে এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগকারিদের অনুমতি না দেয়ার ব্যাপারে নয়াদিল্লীকে তারা প্রভাবিত করেছে। তাদের আশঙ্কা বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ভারতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ পেলে ভারতীয় অনুরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং রাজ্যগুলোর বাজার ভারতীয়দের হাতছাড়া হয়ে যাবে।
বাংলাদেশী পণ্য রাজ্যগুলোতে ঢুকা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশকিছু বাধা নতুন করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যমান শুল্কহার দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশী পণ্যের মূল্য বেশি পড়ছে। কিন্তু দেখা গেছে, এরপরও বাংলাদেশী পণ্যের প্রতি রাজ্যগুলোর ভোক্তা সাধারণের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু বিক্রি কম হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here