সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সংসদ নির্বাচন হবে

0
20

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার মন্ত্রিসভার আকার কমানো নাও হতে পারে বলে ইংগিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভায় ‘সব দলের’ প্রতিনিধিই আছেন। আর নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গতকাল সোমবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার এই ভাবনার কথা তুলে ধরেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলে আসছিলেন, ২০১৩ সালের মত এবারও ভোটের আগে ‘ছোট আকারের নির্বাচনকালীন’ সরকার গঠন করা হবে। চলতি বছরের শুরু জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নিজেও তেমনই আভাস দিয়েছিলেন। দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মন্ত্রীসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার এবার কখন হবে এবং তার ধরন কেমন হবে। উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ছোট না করলে কোনো অসুবিধা আছে কি না। নাঈমুল ইসলাম খান তখন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কোনো সমস্যা নেই। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, যুক্তরাজ্যের মত যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, কোথাও নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয় না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা কেন পুনর্গঠন করা হয়েছিল, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় বিরোধী দলে থাকা বিএনপি নির্বাচনে আসতে রাজি হচ্ছিল না বলে তখন তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা যে মন্ত্রণালয় চায়, সেই মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে বলেছিলাম। তারা যখন আসেনি, তখন বিভিন্ন দলগুলো নিয়ে ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। আর এবারের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা (দশম সংসদ নির্বাচনে) মেজরিটি পাওয়া স্বত্ত্বেও প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। এই মন্ত্রিসভায় জনগণের প্রতিনিধি যারা, তারা আছেন। যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, জানি না এটাকে ছোট করার দরকার আছে কি-না। কাটছাট করা হবে কি-নাভ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা ছোট করা হলে একজনকে কয়েকটা মন্ত্রণালয় চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দুই তিন মাসের জন্য থমকে যেতে পারে। এ বিষয়গুলোও ভাবতে হবে। তিনি বলেন, যদি ডিমান্ড করে অপজিশন, তাহলে করব। আর না হলে কিছু করার নাই।
বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ সৌদি বাদশাহ গ্রহণ করেছেন :
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সৌদি বাদশাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত মঙ্গলবার সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সংসদ নির্বাচন হবে :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করছে তাদের উদ্দেশ্য সবাই জানে। যারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না। তারা চায় না দেশে গণতন্ত্র থাকুক। নির্বাচন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন কথা বলা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা করার স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সবার রাজনীতি করার সুযোগ আছে। যারা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের কার কি ভূমিকা তা সবাই জানে। আগামী নির্বাচনে অঙ্গীকার কী এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশকে দেখতে চাই দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য। আমার লক্ষ্য, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
দফা কত উঁচু হয় সেই অপেক্ষায় আছি: সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতদিন তাদের দাবি ছিল ৪টি। এখন তা সাত দফা হয়েছে। দফা কত উঁচু হয় সেই অপেক্ষায় আছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন কথা বলা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা করার স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সবার রাজনীতি করার সুযোগ আছে। যারা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের কার কি ভূমিকা তা সবাই জানে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here